Calcutta Television Network

আমেরিকার শর্ত নয়, এবার ইরানের শর্ত—হরমুজ নিয়ে তেহরানের বড় ঘোষণা

ইরান-আমেরিকা সংঘাত আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। ইরানের সংসদ স্পিকার এবং আলোচনায় তেহরানের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা ইরানের শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না এবং আগের কাঠামোয় মার্কিন-ইরান আলোচনা ফিরবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শর্তগুলি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে Washington-এর কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণার তাৎপর্য অত্যন্ত বড়। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও LNG এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করত। ফলে প্রণালীতে দীর্ঘস্থায়ী বাধা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না—বিশ্বের তেল সরবরাহ, জাহাজ চলাচল এবং জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তেহরানের দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে যুদ্ধের অবসান, ইরানের উপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং হিমায়িত ইরানি অর্থ মুক্ত করা। আগস্টে গালিবাফ এর পাশাপাশি তেল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সব ফ্রন্টে সামরিক হুমকি ও অভিযান বন্ধের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

অর্থাৎ ইরান এখন হরমুজকে শুধুমাত্র একটি সামরিক কৌশল হিসেবে নয়, কূটনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে। তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—শুধু Washington-এর শর্তে আলোচনা নয়; আলোচনার আগে আমেরিকাকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন চাপের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানকে আলোচনার টেবিলে এনে তার সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছাড় আদায় করা। কিন্তু ইরান এখন হরমুজের নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক সামরিক সক্ষমতাকে leverage হিসেবে ব্যবহার করে আলোচনার শর্তে নিজের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

তবে এর ঝুঁকিও রয়েছে। হরমুজে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে শুধু পশ্চিমা দেশ নয়, ভারতের মতো বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশও সমস্যায় পড়তে পারে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি বিল, মুদ্রাস্ফীতি এবং শিল্প উৎপাদনের উপর চাপ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে Washington ইতিমধ্যেই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। মার্কিন Central Command-এর দাবি অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের বাহিনী ১০৯টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পুনর্নির্দেশ করেছে—যদিও এই সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ফলে পরিস্থিতি এখন এক ধরনের দর-কষাকষির অচলাবস্থা। ইরান বলছে—আগে আমাদের শর্ত পূরণ করুন, তারপর হরমুজ খুলবে। আমেরিকা চাইছে—হরমুজের অবাধ চলাচল নিশ্চিত হোক এবং ইরানের উপর চাপ বজায় থাকুক।

এই অচলাবস্থা ভাঙতে হলে সামরিক শক্তির পাশাপাশি কূটনীতিকদেরও বড় ভূমিকা নিতে হবে। কারণ হরমুজ নিয়ে সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে এটি আর শুধু Iran-US confrontation থাকবে না—এটি হয়ে উঠতে পারে একটি বৈশ্বিক energy crisis-এর সূচনা।

#Iran #USA #StraitOfHormuz #Ghalibaf #IranWar #Trump 

শেয়ার করুন