সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথিদের নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর হুথিরা রিয়াদ ও ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় হামলার দাবি করেছে; সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদের দিকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের তেল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোও হুমকির মুখে রয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হল—হুথিরা কেন আবার সৌদি আরবকে প্রধান লক্ষ্য করছে?
প্রথম কারণটি পুরনো। ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে তারা সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিয়েছে। ২০২২ সালে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত অনেকটাই শান্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আবার সেই বিরতি ভেঙে যায়।
দ্বিতীয় এবং বর্তমান সময়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল সৌদি আরবের আঞ্চলিক অবস্থান। হুথিরা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। একই সময়ে সৌদি আরব আমেরিকার দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ফলে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাত যখন সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সৌদি আরব কার্যত সেই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক পক্ষ হয়ে উঠেছে। Reuters-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে হুথিদের নতুন আক্রমণকে বৃহত্তর Iran war-এর নতুন একটি front হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তৃতীয় কারণ হল অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ। হুথিদের হাতে এখন ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু এলাকা এবং Bab el-Mandeb প্রণালীর কাছে কৌশলগত অবস্থান রয়েছে। এর ফলে তারা Red Sea–Asia shipping route-এর উপর চাপ তৈরি করতে পারে। সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও energy infrastructure-ও তাদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
চতুর্থ কারণ হল দর-কষাকষি। কিছু বিশ্লেষণের মতে, হুথিরা সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহার করে সৌদি আরবের কাছ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ছাড় আদায় করতে চাইছে। Institute for the Study of War-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ বলছে, হুথিরা সৌদি আরবের উপর অর্থনৈতিক চাপকে এমন একটি leverage হিসেবে দেখছে যা অতীতে তাদের দাবির ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছিল।
তবে বর্তমান সংঘাতকে শুধু “ইরানের নির্দেশে হুথিদের হামলা” হিসেবে ব্যাখ্যা করাও যথেষ্ট নয়। হুথিদের নিজস্ব ইয়েমেনি রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য রয়েছে। আবার ইরানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাদের সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে। তাই এখানে স্থানীয় ইয়েমেনি সংঘাত, সৌদি-হুথি পুরনো দ্বন্দ্ব এবং Iran–US বৃহত্তর সংঘাত—তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তার। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা বাড়লে শুধু Riyadh-এর নিরাপত্তাই নয়, তেল সরবরাহ ও Red Sea shipping-ও বিপদের মুখে পড়বে। ইতিমধ্যেই সৌদি আরব missile interceptor-এর ঘাটতি নিয়ে মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছে।
ফলে হুথিদের বর্তমান আক্রমণকে শুধু ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখা যাবে না। এটি এখন মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর শক্তির লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংঘাত—যার প্রভাব সৌদি আরব, ইরান ও ইয়েমেনের বাইরেও বিশ্ব তেল বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে পড়তে পারে।
#Houthis #SaudiArabia #Yemen #Iran #USA #RedSea #BabElMandeb #MiddleEast #Oil #Geopolitics