Calcutta Television Network

ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে? গত ১২ ঘণ্টার ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ

ইরান ও আমেরিকার সংঘাত গত কয়েক ঘণ্টায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা বলছেন, অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে—নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা হলে তার জবাব শুধু ইরানের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরবে হুথিদের নতুন হামলা এবং হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়ার পরিস্থিতি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বার্তাটি এসেছে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের কাছ থেকে। তেহরান সতর্ক করেছে, আমেরিকা নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা হতে পারে। Washington-এর সঙ্গে সামরিকভাবে যুক্ত আঞ্চলিক দেশগুলিকেও ইরান সতর্ক করেছে যে তারা সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর পাশাপাশি ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না এবং আগের কাঠামোয় মার্কিন-ইরান আলোচনা ফিরবে না। অর্থাৎ হরমুজ এখন শুধু সামরিক সংঘাতের অংশ নয়; এটি কূটনৈতিক দর-কষাকষিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এর বাস্তব প্রভাব ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক shipping-এ দেখা যাচ্ছে। Reuters-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি commodity vessel হরমুজ অতিক্রম করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি commercial vessel চলাচল করত। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের মোট তেল সরবরাহ এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং সৌদি আরব কিছু রপ্তানি পুনরুদ্ধার করেছে।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা। রিয়াদ ও ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে হুথিরা। এর ফলে সংঘাতের একটি নতুন আঞ্চলিক front তৈরি হয়েছে এবং সৌদি energy infrastructure ও Red Sea shipping-এর উপরও চাপ বেড়েছে।

তবে ছবির অন্য দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প এখনও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সময় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা রয়েছে। তেলের দামও সোমবার কিছুটা কমেছে, কারণ বাজারে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে।

অর্থাৎ পরিস্থিতি এখন এক অদ্ভুত দ্বৈত অবস্থায় রয়েছে—সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে, অথচ কূটনীতির দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হবে হরমুজ দিয়ে তেল চলাচলের পরিস্থিতি। যদি shipping আরও কমে যায় এবং সৌদি বা অন্য Gulf energy infrastructure-এ বড় ধরনের হামলা হয়, তাহলে crude oil-এর দাম, ভারতের import bill, inflation এবং শেয়ারবাজারে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের পরবর্তী সামরিক সিদ্ধান্ত, ইরানের শর্তের Washington-এর প্রতিক্রিয়া এবং হরমুজে জাহাজ চলাচল—এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে সংঘাত কূটনীতির দিকে যাবে, নাকি আরও বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে।

#Iran #USA #Trump #StraitOfHormuz #IranWar #SaudiArabia #Houthis

শেয়ার করুন