Calcutta Television Network

দেবী ছিন্নমস্তার পৌরাণিক কাহিনি -

দেবী ছিন্নমস্তা কে? কিভাবে তাঁর জন্ম হল?
দেবী ছিন্নমস্তা হলেন হিন্দু শাস্ত্রের দশমহাবিদ্যা রূপে পূজিতা দশজন  তান্ত্রিক দেবীর একজন। তিনি "ছিন্নমস্তা" নামে পরিচিত, যার অর্থ "যিনি তাঁর নিজের মস্তক (মাথা) ছিন্ন করেছেন"। তিনি আত্মত্যাগ,এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি দেবী হিসেবে পূজিতা হন। 

ছিন্নমস্তার জন্ম বৃত্তান্ত কি?
শাস্ত্রে বর্ণিত তথ্য়ানুসারে দেবী তাঁর দুই সঙ্গিনী ডাকিনী ও বর্ণিনীর(যোগিনী) সাথে মন্দাকিনী নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলেন। 
দীর্ঘক্ষণ জলকেলী (স্নান) করায় তারা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লে  দেবী নিজের মস্তক ছেদন তাদের খাদ্যের ব্য়বস্থা  করেন। অন্য একটি মত অনুসারে, দেবী ছিন্নমস্তা শিব ও পার্বতীর মিলন ঘটানোর জন্য নিজের মস্ত ছেদন করেছিলেন। 

বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থে দেবী ছিন্নমস্তর দু’টি জন্মবৃত্তান্ত বর্ণিত হয়েছে। একটি কাহিনি অনুসারে, কৃষ্ণাচার্যের শিষ্যা ছিলেন দুই ভগিনী মেখলা ও কঙ্খলা। তাঁরা ছিলেন মহাসিদ্ধ। নিজেদের মাথা কেটে তাঁরা গুরুকে উৎসর্গ করেন এবং তারপর নৃত্যে রত হন। দেবী বজ্রযোগিনীও তখন সেই রূপে আবির্ভূতা হয়ে তাঁদের সেই নৃত্যে যোগদান করেন। অপর কাহিনি অনুসারে, পদ্মসম্ভবের এক শিষ্যা পূর্বজন্মে ছিলেন রাজকুমারী লক্ষ্মীঙ্করা। রাজা কর্তৃক দণ্ডিতা হয়ে তিনি নিজেই নিজের মাথা কেটে নগর পরিক্রমা শুরু করেন। সেই সময় নগরবাসী তাঁকে ছিন্নমুণ্ডা-বজ্রবারাহী নামে স্তুতি করেন।

ছিন্নমস্তার বৈশিষ্ট্য কি?
দেবী ছিন্নমস্তা প্রায়শই তাঁর নিজের মস্তক হাতে ধরে থাকা অবস্থায় চিত্রিত হন, যা তাঁর বাম হাতে  থাকে।  তাঁর শরীরের গর্দান থেকে রক্ত ​​বেরিয়ে তিনটি ধারায় প্রবাহিত হয়, যা তাঁর দুই সঙ্গিনী ডাকিনী ও যোগিনীর মুখে পড়ে। অন্য় রক্তের ধারাটি নিজের কাটা মাথার মুখে পড়ে। তিনি প্রায়শই নগ্ন বা অর্ধ-নগ্ন অবস্থায় চিত্রিত হন এবং তাঁর কোমরে সাপ জড়ানো থাকে। তিনি উর্বরতা, শক্তি, এবং আত্মত্যাগের প্রতীক।
 
ছিন্নমস্তার পূজা ও তাৎপর্য কি?
ছিন্নমস্তার পূজা সাধারণত তান্ত্রিক সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত। তাঁর পূজা আত্ম-উপলব্ধি, কুণ্ডলিনী শক্তি জাগরণ, এবং মানসিক ও আধ্যাত্মিক বাধা দূর করতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।  ছিন্নমস্তা রাহু গ্রহের উপর প্রভাব বিস্তার করেন বলে মনে করা হয় এবং রাহুর কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পেতে তাঁর পূজা করা হয়। জ্য়োতিষীয় বিশ্বাস অনুসারে, ছিন্নমস্তার পূজা শত্রুদের দমন করতে, রোগ নিরাময় করতে, এবং মোক্ষ (মুক্তি) লাভে করা হয়।
শেয়ার করুন