Calcutta Television Network

রিচা ঘোষ: শিলিগুড়ির ঝড় থেকে বিশ্বজয়ী আগুনপাখি

ক্রিকেটের ইতিহাসে বাঙালি নাম মানেই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের লর্ডসের ব্যালকনি, মানেই লক্ষ্মণের অদম্য প্রতিরোধ। কিন্তু আজ, ২০২৫-এর বিশ্বকাপ জয়ের পর, এক নতুন নাম যুক্ত হয়েছে সেই গৌরবের তালিকায়—রিচা ঘোষ। শিলিগুড়ির কুয়াশামোড়া মাঠ থেকে উঠে আসা এই মেয়ে প্রমাণ করেছে, স্বপ্নের কাছে কোনো শহর ছোট নয়, কোনো লিঙ্গ বাধা নয়।

চার বছর বয়সে প্লাস্টিকের ব্যাট হাতে উঠোনে দৌড়ানো রিচা আজ ২২ বছরে বিশ্বকাপ ফাইনালে ২৪ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মনোবল ভেঙে দিয়েছে তার গদার মতো ব্যাট। উইকেটের পিছনে চিতার ক্ষিপ্রতা, মাঠে অধিনায়কের থেকে বেশি কথা—রিচা শুধু ব্যাটার নন, তিনি একজন কৌশলী যোদ্ধা।

তার পিছনে এক বাবার অদম্য বিশ্বাস। মানবেন্দ্র ঘোষ, শিলিগুড়ির পার্ট-টাইম আম্পায়ার। নিজের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন অপূর্ণ রেখে তিনি মেয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন সেই দায়িত্ব। একটি ইংলিশ উইলো ব্যাট কিনতে তিনি বিক্রি করেছিলেন পরিবারের ছোট্ট ব্যবসার প্লট। “আমার ঘরে হীরা আছে,” বলেছিলেন তিনি। আজ সেই হীরা বিশ্বজয়ী।

মাত্র ১১ বছরে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৯, ১৩-তে সিনিয়র দল, ১৬-তে ভারতের জার্সি। WPL-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের ১.৯ কোটির রেকর্ড চুক্তি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে নেতৃত্ব। আর ২০২৫-এর ফাইনালে মুম্বাইয়ের ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে ট্রফি ছোঁয়ার মুহূর্তে তার বাবা নিঃশব্দে চোখ মুছছিলেন।

রিচা প্রমাণ করেছেন—মেয়ে মানেই ‘ললিত’ নয়, মেয়ে মানে বারুদ। শিলিগুড়ির ঝড় আজ বিশ্ব কাঁপাচ্ছে। কাঞ্চনজঙ্ঘা গর্বে উজ্জ্বল।

শেয়ার করুন