মহামায়া কেন মা বগলামুখীকে সৃষ্টি করলেন?
মা বগলামুখী হলেন সনাতন ধর্মের দশমহাবিদ্যার একটি রূপ। তিনি শক্তি, সুরক্ষা এবং বাধা অতিক্রম করার দেবী হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু মা বগলামুখী কে? মহামায়া কেন তাকে সৃষ্টি করতে গেলেন ? আজ জানব সেই আদি ইতিহাস।
ভাগবত পুরাণে মা বগলামুখীর উৎপত্তির কাহিনি এভাবে বর্ণিত হয়েছে। কাহিনি অনুযায়ী, দক্ষের যজ্ঞে নিমন্ত্রিত না হয়ে দক্ষকন্যা শিবের স্ত্রী সতী অপমানিতা হন। তিনি বিনা আমন্ত্রণেই যজ্ঞে উপস্থিত হতে চাইলে, শিব নিষেধ করেন। সতী অনুনয়বিনয় করে শিবকে রাজি করানোর চেষ্টা করে বিফল হন । তখন ক্রুদ্ধ হয়ে সতী দশমহাবিদ্যার রূপ ধারণ করে দশ দিক দিয়ে ঘিরে ধরে শিবকে ভয় দেখাবার চেষ্টা করেন । এই দশজন দেবীর মধ্য়ে একজন ছিলেন ধূমাবতী । ধুমাবতী চারিদিক ধোঁয়া ও কোয়াশাচ্ছন্ন করে শ্মশানের পরিবেশ সৃষ্টি করলেন। অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে শিব কিছুটা ভীত হয়ে সতীকে দক্ষ রাজার যজ্ঞে যাওয়ার অনুমতি দিলেন। তার পরেও সেই মহাপ্রলয় আর কিছুতেই থামছে না দেখে মহাদেব প্রমাদ গুনলেন। এই মহাপ্রলয় বা ঝড় সকল সৃষ্টিকে ধ্বংসের সম্মুখীন করবে,তা থেকে স্বর্গ ও মর্ত্য়কে বাঁচাতে সমস্ত দেবতা উপায় খুঁজতে লাগলেন। কথিত আছে সমস্ত দেবতারা ভয়ে ভীত হয়ে সৌরাষ্ট্রে একত্রিত হন। বিষ্ণুর পরামর্শে সকলে মিলে দেবী মহামায়ার তপস্য়া শুরু করলেন। তপস্য়ায় তুষ্ট হয়ে মহামায় নিকটস্থ হরিদ্রা সরোবরে থেকে এক "পীতাম্বরা দেবী" কে সৃষ্টি করলেন, যিনি খুব সহজেই এই প্রলয় ঝড়কে থামিয়ে দিলেন। তিনিই হলেন দেবী বগলামুখী। ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের দাতিয়া অঞ্চলের পীতাম্বরা পীঠে হরিদ্রা সরোবরের অনুরূপ একটি হ্রদ রয়েছে। এভাবেই জন্ম হল মা বগলামুখীর।
"বগলামুখী" শব্দটি "বগলা" অর্থ ধরা বা সংযম করা এবং "মুখ" শব্দটির অর্থ দিক। এই শব্দদুটির অর্থ যিনি বিরুদ্ধ পরিস্থিতির মুখ নিয়ন্ত্রণ করে বিপরীত মুখী করতে পারেন তিনিই হলেন বগলামুখী।
গলামুখীকে" "পীতাম্বরা দেবী" বা "ব্রহ্মাস্ত্র-রূপিণী"ও বলা হয়। তিনি একটি গুণকে বিপরীত গুণে পরিবর্তন করতে পারেন বলে হিন্দুরা বিশ্বাস করেন। যেমন, তিনি বাক্যকে নিঃস্তব্ধতায়, জ্ঞানকে অজ্ঞানে, শক্তিকে শক্তিহীনতায়, পরাজয়কে জয়ে পরিবর্তন করেন।
মা বগলামুখীকে বিশেষভাবে শত্রুদের দমন করার দেবী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাকে প্রায়ই "শত্রুবিনাশিনী" (শত্রু নাশকারী) এবং "ব্রহ্মাস্ত্ররূপিনী" (ব্রহ্ম অস্ত্রের মতো শক্তিশালী) বলা হয়।
মা বগলামুখী ভক্তদের মধ্যে সুরক্ষা ও শক্তি প্রদানের জন্য পূজিত হন। তিনি ভক্তদের শত্রু, অশুভ শক্তি এবং নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।