দ্বাদশ জ্য়োতির্লিঙ্গের আত্ম প্রকাশ নিয়ে আমরা কম বেশী আগেই জেনেছি,আজ জানব মহাকালেশ্বর নিয়ে। কিন্তু মহাকালেশ্বর কে?
মহাকালেশ্বর হল, দ্বাদশ জ্য়োতির্লিঙ্গের তৃতীয় লিঙ্গ হল মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ । যা হিন্দু দেবতা শিবের একটি উজ্জ্বল জ্য়োতি রূপ ও মন্দির এবং বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। এই স্থানটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী শহরে রুদ্র সাগর হ্রদের তীরে অবস্থিত। এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভু বা শিবের সাক্ষাৎ-মূর্তি মনে করা হয়,তিনিই হলেন মহাকালেশ্বর।
মহাকালেশ্বর কেন আবির্ভুত হলেন?
শিব পুরাণে বর্ণিত তথ্য় অনুসারে, উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা। এই শহরটিতে ছিল শিক্ষিত ধার্মিক লোকেদের বাস। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসত হিন্দুশাস্ত্র শিক্ষা করতে। প্রচলিত মত অনুসারে, উজ্জয়িনীতে চন্দ্রসেন নামে এক শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন শিবের উপাসক। একদিন শ্রীখর নামে এক কৃষক বালক রাজার শিবের নাম জপ শুনে ছুটে মন্দিরে গিয়ে রাজার সঙ্গে প্রার্থনা শুরু করে দেয়। প্রহরীরা তাকে শহরের বাইরে শিপ্রা নদীর তীরে রেখে আসে। উজ্জয়িনীর পার্শ্ববর্তী দুই শত্রুরাজ্যের রাজা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য সেই সময় উজ্জয়িনীর সম্পদের লোভে উজ্জয়িনী রাজ্য়কে আক্রমণের কথা ভাবছলেন। এই কথা শুনে শ্রীখর শিবের প্রার্থনা শুরু করে। সেই খবর পৌঁছায় বৃধি নামে এক পুরোহিতের কাছে। তিনি এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যান এবং শিপ্রা নদীর তীরে গিয়ে শিবের কাছে প্রার্থনা শুরু করেন। শিবের অভিশাপের বদলা নিতে ব্রহ্মা দূষণ নামে এক দৈত্যকে অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। শত্রুরাজারা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য অসুর দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনী আক্রমণ করেন এবং যুদ্ধে জয় লাভ করেন। তারা উজ্জয়িনীর সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করেন।
অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে চন্দ্রসেনের শত্রুদের ধ্বংস করেন। শ্রীখর ও বৃধির অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বসবাস করতে রাজি হন। তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা। সেই থেকে উজ্জয়িনীতে মহাকাল রূপে শিব তার শক্তি পার্বতীকে নিয়ে বসবাস করছেন। মহাকাল হলেন দেবতা শিবের এক ভয়ঙ্কর রূপ। তিনি চার বাহু এবং তিন চোখ বিশিষ্ট, তিনি সময়, সৃষ্টি, ধ্বংস এবং শক্তির সাথে যুক্ত। তিনি শ্মশানে বাস করেন, যা মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের চক্রের উপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার করেন।
মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি দক্ষিণামূর্তি নামেও পরিচিত। ‘দক্ষিণামূর্তি’ শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’। এই শিবলিঙ্গের বিশেষত্ব এই যে তান্ত্রিক শিবনেত্র প্রথাটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বরেই দেখা যায়। দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরে নাগচন্দ্রেশ্বর মূর্তি আছে। এটি একমাত্র নাগপঞ্চমীর দিন দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের শিখর বা চূড়াটি শাস্ত্রে উল্লিখিত পবিত্র বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। এই মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা আছে, এই রকম প্রথা অন্য কোনো মন্দিরে দেখা যায় না।