Calcutta Television Network

হুথি ইস্যুতে দ্বিধা, সৌদি সম্পর্ক রক্ষায় পাকিস্তানের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ

মধ্যপ্রাচ্যে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা নিয়ে সামরিক সাহায্যের প্রশ্নে পাকিস্তান প্রথমে কঠোর অবস্থান নিলেও পরে পিছিয়ে যায়। এই অবস্থান পরিবর্তন সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাই ইসলামাবাদ এখন স্পষ্টতই ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে নেমেছে।  

আগস্টে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে এক ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করেছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছিল—“একজনের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ।” অনেকেই এটিকে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু পাকিস্তান পরে স্পষ্ট করে জানায়, এই চুক্তি মূলত প্রতিরক্ষামূলক, সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই।  

প্রথমে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, হুথি হামলা সৌদি ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়লে চুক্তি কার্যকর হতে পারে। কিন্তু পরে ইসলামাবাদ অবস্থান বদলায়। তারা জানায়, পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর কোনো স্বয়ংক্রিয় প্রতিশ্রুতি নেই। এই দ্বিধা সৌদি নেতৃত্বের কাছে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।  

এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করে হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং সৌদি জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন যে পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে পাশে থাকবে এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারও পরিস্থিতি সামলাতে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।  

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত ও অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক বাস্তবতার কারণে সরাসরি হুথি বিরোধী যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। ফলে ইসলামাবাদকে এক ধরনের কূটনৈতিক দড়ি টানাটানির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।  

পাকিস্তানের এই অবস্থান পরিবর্তন মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করেছে। তবে ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে যে ইসলামাবাদ সৌদি আরবকে হারাতে চায় না। আগামী দিনে এই দ্বিধা পাকিস্তানের আঞ্চলিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।  

#Pakistan #SaudiArabia #Houthis #DefensePact #MiddleEastCrisis

শেয়ার করুন