এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন Washington একদিকে সামরিক চাপ বজায় রাখছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক পথও পুরোপুরি বন্ধ করেনি। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী পর্যায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এখানেই বর্তমান পরিস্থিতির জটিলতা। কয়েক মাসের সংঘাতের পরও ইরান পুরোপুরি মার্কিন শর্ত মেনে নেয়নি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এখনও বড় প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যেও হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে, ফলে সংঘাতের ভৌগোলিক পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্পের সামনে তাই দুটি পথ স্পষ্ট—সামরিক চাপ আরও বাড়ানো, অথবা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বজায় রেখে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালানো। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে আবার “very strong military action”-এর পথে যেতে পারেন। অর্থাৎ সামরিক অভিযান তাঁর কৌশল থেকে পুরোপুরি বাদ পড়েনি।
তবে নতুন করে বড় আকারের যুদ্ধ শুরু হলে তার প্রভাব শুধু আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উপসাগরীয় দেশগুলির নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি—সব ক্ষেত্রেই নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে চাপ পড়ছে।
ভারতের জন্যও পরিস্থিতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে নতুন সামরিক সংঘাত হলে ভারতের আমদানি খরচ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং শেয়ারবাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।
অতএব, ট্রাম্পের “বিগ ডিসিশন” শুধু আরেকটি সামরিক হামলার প্রশ্ন নয়। এটি আসলে নির্ধারণ করবে—ইরান সংকটের পরবর্তী পর্যায় কি আবার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি সামরিক চাপকে কূটনৈতিক সমঝোতার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হবে। আগামী কয়েকদিনের কূটনৈতিক তৎপরতা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
#Trump #Iran #USA #IranWar #StraitOfHormuz #MiddleEast #OilPrices #India #Geopolitics