তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—১০০ শতাংশ শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়নি। আইনটি ট্রাম্প প্রশাসনকে এই ক্ষমতা দিয়েছে; কোন দেশকে লক্ষ্য করা হবে এবং কী হারে শুল্ক বসানো হবে, তার সিদ্ধান্ত পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়া হবে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনটি রাশিয়ার তেল-গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কাঠামো তৈরি করেছে।
এখানেই ভারতের জন্য বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা এবং রুশ crude ভারতের মোট তেল আমদানির ৪০ শতাংশেরও বেশি। সস্তা রুশ তেল গত কয়েক বছরে ভারতের পরিশোধন শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক থাকতে সাহায্য করেছে। ফলে হঠাৎ করে রুশ তেল আমদানি কমাতে হলে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্যান্য উৎস থেকে বেশি দামে crude কিনতে হতে পারে।
অন্যদিকে, রুশ তেল কেনা অব্যাহত রাখলে আমেরিকার নতুন শুল্কের ঝুঁকি তৈরি হবে। অর্থাৎ ভারতের সামনে এখন শুধু একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং রপ্তানি বাজার—তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে সামলানোর চ্যালেঞ্জ।
ভারত ইতিমধ্যেই Washington-কে জানিয়েছে যে এই ধরনের ব্যবস্থা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক energy market-এর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে New Delhi বলেছে, দেশের ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তার প্রধান অগ্রাধিকার এবং ভারত বাণিজ্যিকভাবে সুবিধাজনক উৎস থেকে তেল কিনবে।
এই আইনের প্রভাব শুধু ভারত বা চীনের উপর সীমাবদ্ধ নয়। রাশিয়ার তেল সরবরাহে বড় ধাক্কা এলে বিশ্ববাজারে crude-এর দাম বাড়তে পারে। ফলে আমেরিকাও একটি কঠিন ভারসাম্যের মুখে পড়তে পারে—রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে গিয়ে যেন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি না হয়। Reuters-এর বিশ্লেষণেও এই সময়ের বাজার পরিস্থিতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত এই আইন কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের হাতে এখন একটি শক্তিশালী negotiating tool রয়েছে। কিন্তু সেটি বাস্তবে ব্যবহার করলে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য, ভারতের জ্বালানি আমদানি এবং বিশ্ব তেলের বাজার—তিন ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থাৎ, ১০০ শতাংশ শুল্ক এখনও বাস্তবতা নয়; কিন্তু ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি এখন আইনি ক্ষমতায় পরিণত হয়েছে।
#Trump #India #Russia #RussianOil #USIndia #Tariffs #CrudeOil #EnergySecurity #Geopolitics