Calcutta Television Network

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, শান্তি আলোচনায় কি আরও বাড়ল দূরত্ব?

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ যখন এখনও অনিশ্চিত, ঠিক তখনই রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিন সতর্ক করেছিল, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শান্তি চুক্তিতে পৌঁছনোর পথ আরও কঠিন করে তুলবে। সেই সতর্কতার পরেই ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা আইনটিতে স্বাক্ষর করেছেন।

নতুন আইনের লক্ষ্য রাশিয়ার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র—বিশেষ করে জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত তথাকথিত “shadow fleet”, রুশ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপর চাপ বাড়ানো। একই সঙ্গে আইনটি প্রেসিডেন্টকে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও দেয়।

ক্রেমলিনের বক্তব্য, একদিকে যদি Washington আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করতে চায়, অন্যদিকে একই সময়ে মস্কোর উপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা কঠিন হবে। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছিলেন, অতিরিক্ত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টাকে “জটিল” করবে।

অন্যদিকে Washington-এর দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের যুক্তি হলো, রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে মস্কোর যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা ও দর-কষাকষির অবস্থান প্রভাবিত হতে পারে এবং সেটিই শেষ পর্যন্ত আলোচনার জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও নতুন নিষেধাজ্ঞাকে রাশিয়াকে যুদ্ধ শেষ করার দিকে চাপ দেওয়ার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

এখানেই শান্তি আলোচনার মূল দ্বন্দ্ব। রাশিয়া বলছে, চাপ বাড়ালে সমঝোতা কঠিন হবে; আমেরিকা ও ইউক্রেনের অবস্থান হলো, পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করানো যাবে না। অর্থাৎ একই পদক্ষেপকে দুই পক্ষ সম্পূর্ণ বিপরীত কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে দেখছে।

এর প্রভাব ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নতুন আইনে রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর অতিরিক্ত শুল্কের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভারত-রাশিয়া জ্বালানি বাণিজ্য এবং ভারত-মার্কিন সম্পর্ক—দুই ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে ১০০ শতাংশ শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব ক্ষেত্রে কার্যকর হয়ে গেছে—এমনটা বলা ঠিক হবে না; আইনটি প্রেসিডেন্টকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত শান্তি আলোচনার সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নিষেধাজ্ঞার উপর নয়। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি, রাশিয়া ও ইউক্রেনের গ্রহণযোগ্য শর্ত, এবং Washington-এর মধ্যস্থতার কৌশল—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করবে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট: অর্থনৈতিক চাপ এবং কূটনৈতিক সমঝোতা—দুটিকে একই সঙ্গে পরিচালনা করাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

#Russia #Ukraine #USA #Trump #RussiaSanctions #UkraineWar #PeaceTalks #India #Geopolitics #GlobalPolitics

শেয়ার করুন