ভগবান শিব জগতের শ্রেষ্ঠ,তা প্রমাণ করতে সুবিশাল, অনন্ত, অসীম এক জ্যোতির্ময় আলোক রশ্মি রূপে উদ্ভাসিত হলেন। একেই বলে জ্য়োতির্লিঙ্গ। ভারতের বারটি বিভিন্ন স্থানে এই জ্য়োতির্লিঙ্গের আত্ম প্রকাশ ঘটল। এটাই হল দ্বাদশ জ্য়োতির্লিঙ্গ। দ্বাদশ জ্য়োতির্লিঙ্গের সপ্তমতম লিঙ্গটি হল রামেশ্বর জ্য়োতির্লিঙ্গ । এই রামেশ্বর জ্য়োতির্লিঙ্গের ইতিহাস বহু প্রাচীন ,এটি তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে অবস্থিত। এই মন্দিরটি ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত এবং এর একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস ও তার গুরুত্ব রয়েছে। লঙ্কা জয়ের পর ভগবান রাম এখানে শিবলিঙ্গ স্থাপন করে পূজা করেছিলেন। মন্দিরটি শৈব, বৈষ্ণব এবং স্মার্ত সম্প্রদায়ের জন্য একটি পবিত্র স্থান।
ইতিহাস কি বলছে?
হিন্দু পুরাণ অনুসারে ও পন্ডিতদের মতে ভগবান রাম লঙ্কা জয় করার পুর্বে এই স্থানে শিবলিঙ্গ স্থাপন করে পূজা করেছিলেন। ভগবান রামের নির্দেশে হনুমান কৈলাস পর্বত থেকে শিবলিঙ্গ এনে এখানে স্থাপন করেন, কেননা ব্রহ্ম হত্য়া অর্থাৎ রাবণ ব্রাহ্মণ ছিলেন তাই পাপ স্খলনের জন্য় শিবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এই লিঙ্গ রামলিঙ্গম ও বিশ্বলিঙ্গম নামে পরিচিত।
আবার হিন্দু মহাকাব্য বাল্মিকী রামায়ণ অনুসারে, দেবতা বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রাম, শ্রীলঙ্কায় রাক্ষস-রাজা রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় বহু প্রাণ হত্য়া করে যে পাপ করেছিলেন সেই পাপ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য় শিবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। পুরাণ অনুসারে ঋষিদের পরামর্শে, রাম তার স্ত্রী সীতা এবং ভাই লক্ষ্মণ সহ লিঙ্গ স্থাপন ও পূজা করেছিলেন। রাবণ ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ এবং বিশ্রবের পুত্র তাঁকে বধ করার সময় ব্রহ্ম হত্যার দায় থেকে পাপ মোচন করার জন্য। শিবের উপাসনা করার জন্য, রাম তার বিশ্বস্ত অনুচর হনুমানকে যে কিনা শিবেরই অবতার তাকে হিমালয় থেকে শিব লিঙ্গ আনার নির্দেশ দেন। যেহেতু লিঙ্গটি আনতে বেশি সময় লেগেছিল, তাই সীতা নিকটবর্তী সমুদ্রতীরে বালি দিয়ে একটি শিব লিঙ্গ তৈরি করেছিলেন, যা বর্তমান মন্দিরের গর্ভগৃহে ছিল বলেও বিশ্বাস করা হয়। এই বিবরণটি ঋষি বাল্মীকি রচিত আদি রামায়ণ দ্বারা সমর্থিত যুদ্ধ কাণ্ডে উল্লেখ আছে। আর এখানেই শিবের দ্বাদশ জ্য়োতির্লিঙ্গের সপ্তমতম লিঙ্গ রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গটি উদ্ভাসিত হয়।
রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গটি রামানাথস্বামী মন্দির নামেও পরিচিত। এই মন্দির বিশাল আকারের জন্য বিখ্যাত, এর অভ্যন্তরে ১,২১২টি স্তম্ভ রয়েছে, যা হিন্দু ভাস্কর্যের চমৎকার নিদর্শন। এই মন্দির দর্শনে সারা বছরই দেশ বিদেশের অগণিত ভক্ত সমাগম হয়।