শিবলিঙ্গ ও জ্য়োতির্লিঙ্গ কি একই বস্তু? এই লিঙ্গগুলি কি যে কোন স্থানে রাখতে পারি? না হলে কেন নয়? আজ জানব সেই ইতিহাস।
শিবলিঙ্গকে মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং শিবের সক্রিয় শক্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়। এটি মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং ধ্বংস চক্রের প্রতিনিধিত্ব করে। লিঙ্গ শব্দের অর্থ চিহ্ন বা প্রতীক। শিবলিঙ্গ হল শিবের প্রতীক, যা তাঁর অসীম এবং অনন্ত প্রকৃতির পরিচায়ক। যোগশাস্ত্রে, শিবলিঙ্গকে মেরুদণ্ডের ভিত্তি বা মূলাধার চক্রের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়, যা কুণ্ডলিনী শক্তির আধার। এক কথায় শিবলিঙ্গ হল শিবের প্রতীক যা সৃষ্টি ,স্থিতি, লয় কে নির্দেশ করে ও পুনর্জন্মের বার্তা দেয়। শিবলিঙ্গের কোন নির্দিষ্ট স্থান কাল পাত্র নেই।
অন্য় দিকে জ্যোতির্লিঙ্গ হল ভগবান শিবের উদ্ভাস যা 'স্বয়ম্ভু' যা নিজে থেকেই ঘটে। অন্য কথায়, জ্যোতির্লিঙ্গ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হয়। এক কথায় জ্য়োতির্লিঙ্গ হল জীবের মোক্ষ লাভের উপায় ও আত্মার চির মুক্তির প্রতীক।
জ্যোতির্লিঙ্গ হল শিবের ১২টি বিশেষ রূপ, যা ভগবান শিবের বিশালত্ব প্রমানের জন্য় স্বয়ং প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। প্রতিটি জ্যোতির্লিঙ্গের সাথে একটি নির্দিষ্ট মন্দির এবং স্থান জড়িত। এই মন্দিরগুলি ভারতে অবস্থিত এবং বিশ্বজুড়ে ভক্তরা এই মন্দিরগুলিতে পূজা করার জন্য যান। সংক্ষেপে, শিবলিঙ্গ হল শিবের একটি সাধারণ প্রতীক যা যেকোনো স্থানে স্থাপন করা যেতে পারে,আর সেখানে জ্যোতির্লিঙ্গ হল শিবের বিশেষ ১২টি রূপ যা নির্দিষ্ট মন্দিরগুলিতে পূজা করা হয়।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের সংক্ষিপ্ত বিবরণঃ
১) সোমনাথ (গুজরাট)-এটি গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে অবস্থিত এবং এটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম। এটি বার বার ধ্বংস ও পুনর্গঠনের শিকার হয়েছে, যা এর স্থিতিস্থাপকতার প্রতীক।
২) মল্লিকার্জুন (শ্রীশৈলম, অন্ধ্র প্রদেশ)-কৃষ্ণা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি শিব ও পার্বতীর মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত।
৩) মহাকালেশ্বর (উজ্জয়িনী, মধ্য প্রদেশ)-এটি শিবের অন্যতম বিখ্যাত মন্দির এবং এখানে মহাকাল রূপে শিব পূজিত হন।
৪)ওঁকারেশ্বর (মধ্য প্রদেশ)-নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি "ওঁ" আকৃতির দ্বীপের উপরে অবস্থিত।
৫) কেদারনাথ (উত্তরাখণ্ড)-এটি হিমালয়ের কোলে অবস্থিত এবং হিন্দুদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। এটি শিবের পঞ্চকেদার অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
৬) ভীমশঙ্কর (মহারাষ্ট্র)-সহ্যাদ্রি পার্বত্য অঞ্চলে ভীমা নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি শিবের জ্যোতির্লিঙ্গগুলির মধ্যে অন্যতম।
৭) কাশী বিশ্বনাথ (বারাণসী, উত্তর প্রদেশ)-এটি গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এবং শিবের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। এটি মোক্ষ লাভের স্থান হিসেবে বিবেচিত।
৮) ত্র্যম্বকেশ্বর (মহারাষ্ট্র)-গোদাবরী নদীর তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটি শিবের ত্র্যম্বক রূপের জন্য বিখ্যাত।
৯) বৈদ্যনাথ (ঝাড়খণ্ড)-এটি ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে অবস্থিত এবং শিবের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত।
১০) নাগেশ্বর (গুজরাট)-এটি গুজরাটের দ্বারকা অঞ্চলে অবস্থিত এবং শিবের নাগেশ্বর রূপে পূজিত হন।
১১) মহারাষ্ট্রে গ্রীষ্মেশ্বর রূপে পূজিত হন।
১২) রামেশ্বরম (তামিলনাড়ু)-এটি তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম দ্বীপে অবস্থিত এবং রামের সাথে সম্পর্কিত।
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টির প্রধান কারণ হল ভগবান শিবের মহিমা ও লীলা প্রচার করা। এছাড়াও, এই জ্যোতির্লিঙ্গগুলি শিবের পবিত্র মন্দির এবং ভক্তদের জন্য আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে। যা হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী পৃথিবীর ভিত্তি ও জীবের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য।