একবার, ব্রহ্মা (সৃষ্টির কর্তা) এবং বিষ্ণু (রক্ষা কর্তা) মহেশ্বর (পালন কর্তা) তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে তাই নিয়ে তর্ক হচ্ছিল। বিতর্কের মাঝেই শিব ত্রিভূবন (স্বর্গ, মর্ত্য়, পাতাল) ভেদ করে এক বিশাল আলোক স্তম্ভের সৃষ্টি করলেন। এই আলোক স্তম্ভের বিশালতা ছিল অসীম ও অনন্ত। ভগবান শিবের বিশালত্ব প্রমানের জন্য় স্বয়ং প্রকাশিত হয়েছে বলে মনে করা হয়। এটা হল ভগবান শিবের উদ্ভাস,প্রভাস যা 'স্বয়ম্ভু' একেই বলে শিবের জ্যোতির্লিঙ্গ যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদর্শিত হয়। জ্যোতির্লিঙ্গ হল শিবের ১২টি বিশেষ রূপ যা ভারতের বারটি স্থানে বিশেষ মন্দির রূপে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভগবান শিবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান মন্দির হল সোমনাথ মন্দির।
সোমনাথ মন্দির ভারতের গুজরাট রাজ্যে অবস্থিত একটি বিখ্যাত হিন্দু মন্দির। এটি ভগবান শিবের বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্দির। মন্দিরটি একাধিকবার ধ্বংস ও পুনর্নির্মিত হয়েছে।
সোমনাথ মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন, এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেওয়া বেশ কঠিন। বিজ্ঞ পণ্ডিতদেরমত ও প্রচলিত ধাবণা অনুসারে, সোমনাথ মন্দির বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা দেবতা দ্বারা নির্মিত হয়েছিল। প্রথম মন্দিরটি সম্ভবত চন্দ্র (সোম) দেবতা কর্তৃক স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত হয়েছিল, এরপর ত্রেতা যুগে রাবণ এটি রূপা দ্বারা পুনর্গঠন করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। দ্বাপর যুগে শ্রীকৃষ্ণ কাঠ দিয়ে মন্দিরটি পুনর্গঠন করেন। ভীমদেব পাথর দিয়ে মন্দিরটি পুনর্গঠন করেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, মন্দিরটি ষষ্ঠ বা সপ্তম শতাব্দীতে ম্যাঁইত্রাক রাজবংশের রাজা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল। চৌলুক্য রাজবংশের রাজা কুমারপাল মন্দিরটি পুনর্গঠন করেন।
১৯৪৭ সালে জুনাগড় ভারতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল মন্দিরটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন। বর্তমান মন্দিরটি গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী Chalukyan স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এবং ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ দ্বারা উদ্বোধন করা হয়েছিল।
সোমনাথ মন্দির সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
১) মন্দিরটি গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের প্রভাস পাটন-এ সমুদ্রের তীরে অবস্থিত।
২) এটি ভগবান শিবের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম এবং প্রধান।
৩) সোমনাথ মন্দিরটি "চিরন্তন পীঠ" নামে পরিচিত, কারণ এটি অতীতে বহুবার ধ্বংস ও পুনর্গঠিত হয়েছে।
মুসলিম শাসকদের দ্বারা সোমনাথ মন্দির আক্রমণঃ
গজনীর মাহমুদের আক্রমণ:
১০২৫-১০২৬ খ্রিস্টাব্দে, গজনীর সুলতান মাহমুদ সোমনাথ মন্দির আক্রমণ ও লুণ্ঠন করেন। এটি ছিল ভারতে তার পঞ্চদশ অভিযান এবং এই অভিযানে মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আলাউদ্দিন খিলজির আক্রমণ:
১২৯৯ সালে, আলাউদ্দিন খিলজির বাহিনী গুজরাট আক্রমণের সময় সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করে।
অন্যান্য আক্রমণ:
এছাড়াও, সিন্ধুর আরব শাসক জুনায়েদ এবং অন্যান্য মুসলিম শাসকরাও মন্দিরটি আক্রমণ ও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছিল।