আমরা সকলেই জানি যে , জোড়াসাঁকো ঠাকুর পরিবার একটি ঐতিহ্যশালী পরিবার। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই পরিবারে। তাই আমরা কমবেশি সকলেই কিন্তু এই পরিবার সম্পর্কে কৌতূহলী। তবে আমরা যে ঠাকুরবাড়ির কথা জানি তাদের আদি বাড়ি কিন্তু জোড়াসাঁকো তে ছিল না এবং তাঁদের আদি পদবিও কিন্তু ঠাকুর ছিল না। তাহলে কি ছিল ? সেই কথায় আজ জানবো।
তাদের আদি পদবি ছিল কুশারী এবং তাঁরা ছিলেন পিরালী ব্রাহ্মণ। জানা যায় যে, মহারাজা আদিশূর এদেশে বেদবিহিত যজ্ঞাদি প্রবর্তনের উদ্যেশ্যে কনৌজ থেকে পাঁচ জন ব্রাহ্মণ কে আনিয়েছিলেন।বলা হয় যে , আধুনিক বাঙালি ব্রাহ্মণদের আদি পুরুষ নাকি এই পঞ্চ ব্রাহ্মণ। যদিও এই মত নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। আবার আর একটি মত অনুসারে শান্ডিল্য গোত্রীয় ভট্টনারায়ণ থেকে ঠাকুর গোষ্ঠীর উদ্ভব। আবার আমরা যদি ইতিহাস অনুসরণ করি তাহলে দেখতে পাবো খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মুসলিম আক্রমণের পরবর্তীকালে বাংলার সমাজব্যবস্থা একটা প্রবল আলোড়নের সম্মুখীন হয়েছিল।
কোথাও মুসলিম শাসকদের অত্যাচারে , কোথাওবা তাঁদের সংস্পর্শের কারণেই বহু উচ্চশ্রেনীর হিন্দু, বিশেষত ব্রাহ্মণরা সামাজিক দিক দিয়ে অখ্যাতি লাভ করেছিল। রবীন্দ্রনাথের আদি পুরুষেরা এই ভাবেই ব্রাহ্মণ সমাজে একটি বিশিষ্ট ' থাক' ভুক্ত হয়েছিলেন। যার নাম পিরালী থাক। এই সমাজচ্যূতির ফলে স্বশ্রেণীর ব্রাহ্মণদের সঙ্গে পিরালিদের বিবাহ এবং অন্যান্য সামাজিক ক্রিয়াকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর যেটি হলো তা হলো শুকদেবের কন্যা কে বিবাহ করেন জমিদার জগন্নাথ কুশারী। এই অপরাধে আত্মীয়দের দ্বারা পরিত্যক্ত হয়ে জগন্নাথ কুশারী শুকদেবের আশ্রয়ে বারোপাড়া গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। বলা হয় যে , এই জগন্নাথ কুশারীই হলো ঠাকুর বংশের আদি পুরুষ। এরপর কি হলো তা জানাবো আগামী পর্বে।