সুস্মৃতি দাস : জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির অন্যতম আদি পুরুষ নীলমনি ঠাকুরের পুত্র রামলোচন ঠাকুরের দত্তকপুত্র ছিলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর(১৭৯৪ -১৮৪৬ )। আমরা জানি যে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর। যিনি ঠাকুরবাড়ির বৈভব ও প্রতিপত্তির প্রধান উৎস যেমন ছিলেন তেমনি তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত রাজসিক এবং জাঁকজমক পূর্ণ। তিনি যখন ব্রিটেনে অবস্থান করছিলেন তখন তাঁর সমকালীনরা তাঁকে প্রিন্স নামে অভিহিত করতেন এবং এই ভাবেই কলকাতায়ও তিনি প্রিন্স নামে পরিচিত হয়ে উঠলেন।
বাল্যকালেই দ্বারকানাথ তৎকালীন রীতি অনুযায়ী আরবি ও ফার্সি ভাষা আয়ত্ত করেন। এছাড়াও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ির কাছেই অবস্থিত শেরবর্ন সাহেবের স্কুলে ভর্তি হন। যদিও তখনও পর্যন্ত ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশীয়দের মধ্যে ইংরেজি শিক্ষার প্রসারে আগ্রহী ছিলেন না। বরং প্রাচীন শিক্ষা পদ্ধতি টোল - মাদ্রাসার প্রসারের দিকেই তাদের উৎসাহ ছিল। অথচ ইংরেজি শাসনের ক্রমবিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ইংরেজি জানা ভারতীয়দের চাহিদা বেড়ে উঠেছিল ।
এই কারণে প্রধানত কয়েকজন এংলো ইন্ডিয়ান সাহেবের ব্যক্তিগত তত্বাবধানে কয়েকটি ইংরেজি শিক্ষার স্কুল গড়ে উঠেছিল। শেরবর্ণের স্কুল ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম। জানা যায় যে, এই সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসাবে দ্বারকানাথ তাঁকে আজীবন মাসোয়ারা প্রদান করেছিলেন। আগামী পর্বে জানাবো ব্যবসা বাণিজ্যের মাধ্যমে দ্বারকানাথের বৈভব বৃদ্ধির কথা।