সুস্মৃতি দাস: জগন্নাথ কুশারী থেকে কি করে ঠাকুর বাড়ির পদবী ঠাকুর হলো, আজ বলবো সেই গল্প। জগন্নাথ কুশারীর চার পুত্র। প্রিয়ম্বর, পুরুষোত্তম, হৃষিকেশ এবং মনোহর। জানা যায় যে, রবীন্দ্রনাথের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্র নাথ ঠাকুর প্রত্যহ যে মন্ত্র টি আবৃত্তি করে পিতৃপুরুষ দের স্মরণ করতেন, তার আদিতে ছিল জগন্নাথ কুশারীর মধ্যমপূত্র পুরুষোত্তমের নাম।
পুরুষোত্তমের প্রপৌত্র ছিলেন রামানন্দ। তাঁর দুই পুত্র- মহেশ্বর ও শুকদেব। শোনা যায় যে, মহেশ্বর বা তাঁর পুত্র পঞ্চানন জ্ঞাতি কলহের ফলে দেশ ত্যাগ করে কলকাতায় এসে উপস্থিত হন। সময়টা ছিল জব চার্ণকের কলকাতা পত্তনের সময়। যদিও এর অনেক আগে থেকেই এই অঞ্চল ব্যবসা বাণিজ্যে প্রাধান্য লাভ করেছিলো। আর সেই ব্যবসা বাণিজ্যের আকর্ষণেই পঞ্চানন ও শুকদেব কলকাতা গ্রামের দক্ষিণে গোবিন্দপুরে আদি গঙ্গার তীরে বসতি স্থাপন করেন। সেখানে তখন বাস করত মৎস্য ব্যবসায়ী জেলে, মালো, কৈবর্ত প্রভৃতি জাতি। এই সব জাতিরা তাদের বসবাসের ব্যাবস্থা করে দিলো। বিদেশী যেসব জাহাজ সেখানে আসতো, পঞ্চানন ও শুকদেব প্রথমে সেইসব জাহাজে মাল সরবরাহের কাজ শুরু করলেন।
এই ভাবেই কিছু অর্থের অধিকারী হয়ে গোবিন্দপুরে গঙ্গাতীরে জমি কিনে বসতবাটি নির্মাণ করলেন এবং শিব প্রতিষ্ঠা করলেন। আর এই সময় ঘটনাচক্রে তাদের পদবীরও পরিবর্তন ঘটে। নিম্নশ্রেনীর প্রতিবেশীদের কাছে তারা "ঠাকুর মশাই " অভিধায় সম্বোধিত হতেন। এদের দেখাদেখি ইংরেজ সাহেবেরাও তাদের ঠাকুর বলতে শুরু করলেন। আর এই ভাবেই পঞ্চানন কুশারী হয়ে পড়েন পঞ্চানন ঠাকুর। এই পঞ্চানন ঠাকুর থেকেই কলকাতার পাথুরিঘাটা, জোড়াসঁআকো ও কয়লাঘাটার ঠাকুর গোষ্ঠীর উৎপত্তি। সেই থেকেই তাদের পদবী হল "ঠাকুর"...পরের গল্প নিয়ে আসছি আগামী পর্বে।