সুস্মৃতি দাস : পঞ্চানন ঠাকুরের দুই পুত্র--জয়রাম এবং রামসন্তোষ। এই জয়রাম ও রামসন্তোষের সঙ্গে ইংরেজ বণিকদের মেলামেশা থাকায় তারা কিছু কিছু ইংরেজি জানতেন। তাছাড়া তৎকালীন রীতি অনুসারে ফার্সি ভাষায়ও বুৎপত্তি লাভ করেন। তখন পঞ্চাননের চেষ্টায় জয়রাম ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির পে-মাস্টার এর অধীনে প্রধান কর্মচারী নিযুক্ত হন। কলকাতা, সুতানুটি এবং গোবিন্দপুর ইংরেজদের অধীনে আসার পর ১৭০৭ সালে এই অঞ্চলে প্রথম জরিপ কার্য হয়। এই কাজে দুজন আমিনের প্রয়োজন হলে পঞ্চাননের অনুরোধে কালেক্টর রাল্ফ শেলডন জয়রাম ও রামসন্তোষ কে এই পদে নিযুক্ত করেন। জয়রাম আবার পে- মাস্টার এর অধীনে কর্মও বজায় রাখেন।
এই ভাবেই তারা ধীরে ধীরে বিত্তশালী হয়ে ওঠেন। এরপর ১৭১৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতার দক্ষিণে দশ মাইল পর্যন্ত স্থানের মধ্যে ৩৮ টি গ্রাম ক্রয় করলে এগুলির জরিপ কার্য জয়রাম ও রামসন্তোষ ই সম্পন্ন করেন। এই ভাবেই ঠাকুর পরিবার কলকাতায় এসে ধীরে ধীরে আর্থিক দিক থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
এর থেকে বোঝা যায় যে , নতুন পদবি -প্রাপ্ত পিরালী ব্রাহ্মণ ঠাকুর গোষ্ঠী ধন সম্পদ ও মান মর্যাদার দিক থেকে কলকাতার নতুন সমাজে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠা অর্জন করেছিল। কিন্তু বিবাহাদি র ব্যাপারে যশোরের পিরালী সম্প্রদায়ের বাইরে যাওয়ার উপায় ছিলোনা। জয়রামের ছিল দুই স্ত্রী - গঙ্গা ও রামধনী এবং রামসন্তোষের ছিল এক স্ত্রী। জয়রামের চারটি পুত্র - আনন্দিরাম, নীলমনি , দর্পনারায়ণ এবং গোবিন্দরাম। তাঁদের মধ্যে নীলমনি ছিলেন বিশেষ উল্যেখযোগ্য। আগামীপর্বে জানাবো নীলমনি ঠাকুরের কথা।