Calcutta Television Network

হাঙ্গেরি থেকে ট্রাপিজের খেলা দেখাতে কলকাতায় আসা, তারপর স্থাপন করলেন কলকাতার বিখ্যাত দোকান!

হাঙ্গেরি থেকে ট্রাপিজের খেলা দেখাতে কলকাতায় আসা, তারপর স্থাপন করলেন কলকাতার বিখ্যাত দোকান!
13 October 2026 04:03:23 pm

৪০-র দশকের কলকাতা। বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। তখনও ঘোড়ায় টানা গাড়ি চলে কলকাতার বুকে। পতপত করে শহরের বুকে তখনও উড়ছে ইউনিয়ন জ্যাক। ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষ। ব্রিটিশরা তখনও দখল করে আছে ভারত। সুদূর হাঙ্গেরি থেকে কলকাতায় পাড়ি দেয় এক চাল-চুলোহীন যুবক। পটু ট্রাপিজ শিল্পী। কলকাতার রাশিয়ান সার্কাসে যুক্ত হয়ে ভালোই কামাচ্ছিল সে। কিন্তু ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যায় পুরো দমে। কাজটি খুইয়ে বসে কর্মীছাঁটাইয়ের বাজারে। দেশে ফেরার মত সামান্যতম অর্থও নেই হাতে। গোটা মহানগরীই তার অচেনা। কিন্তু উপায় তো কিছু বার করতে হবে। অগত্যা ভরসা কলকাতা। কাউকে খালি হাতে ফেরায় না যে শহর। মির্জা গালিব স্ট্রিটে খুলে বসলো কোল্ড স্টোরেজ। বাহারি বেকন-সসেজ-সেলামির পসরা সাজিয়ে বসে গেল কলকাতার বুকে। সাহেবরা ভিড়ও করতে লাগলো দিব্যি। ইতিমধ্যে ২০০ বছরের শাসনের অবসান ঘটে বাংলার বুকে। পাড়ায় পাড়ায় উড়তে থাকে তিরঙ্গা পতাকা। কিন্তু শহরে টুকটাক থেকে যায় ব্রিটিশ কলোনি। হাঙ্গেরিয়ান সসেজ কিংবা বিফ স্টেক দেদার বিকোতে থাকে তাঁর দোকান থেকে। অক্স টাং কিন্তু বহুদূর থেকে তাঁর দোকানে লোক আসতো। প্রাক সত্তর দশক অবধি অবাধে চলতো বিকিকিনি। তাঁর স্ত্রী ছিল বর্মার মানুষ। সংসার চলতো দুজনের। কিন্তু ইতিমধ্যে একদিন মৃত্যু হয় কালমন সাহেবের। 

অনুগত কর্মচারী ও হিসেব রক্ষক বিষ্ণুপদ ধর দোকানের দায়িত্ব নেন। তিনিই এই ব্রিটিশ ডিশের মায়া কলকাতার বুকে দীর্ঘদিন অক্ষুন্ন রাখেন। পরবর্তীতে দায়িত্ব নেয় তাঁর স্ত্রী। গোটা ভারতবর্ষে একমাত্র এখানেই হাঙ্গেরিয়ান সসেজ মেলে। বিফ-পর্ক-চিকেন-হ্যাম সবটুকু একছাদের তলায়। দোকানের খাবারে মেশে না কোনো রাসায়নিক। আজিনা মটো পর্যন্ত ব্যবহার করা হয় না পণ্যে। সারাবছরই লেগে থাকে ভিড়। আগে শুধু অ্যাংলো সাহেব বা মেমরাই আসতেন। এখন ভিড় করে বাঙালিরা। রসনা তৃপ্তির ঠিকানা। শীতকালে ভিড় বাড়ে। বড়দিন বা বর্ষশেষের সময়টা উপচে পড়ে লোকে। 

এমনিতে এ রাস্তা প্রাচীন। রাস্তার গোড়ায় আছে আরমেনিয়ান কলেজ, নিখিল ব্যানার্জীর স্মৃতি। পুরোনো রেকর্ডগুলো ভিড় করে থাকে। পথ পেরিয়ে দূরে বাড়ি থেকে ইঁটের পাঁজা দেখা যায়। উঁকি দেয় পুরোনো অশ্বত্থ গাছ। সন্ধ্যা হলে দূরে হর্ন বাজিয়ে চলে যায় কোনো লং রুটের বাস। আর এসব কিছুর মধ্যে চাকচিক্যহীন বুড়ো কালমন বেঁচে থাকে পুরোনো কলকাতার স্মৃতি আঁকড়ে।

×
  • CTVN