Calcutta Television Network

লখনৌয়ের শেষ নবাবের সমাধি কোথায়?

লখনৌয়ের শেষ নবাবের সমাধি কোথায়?
14 October 2026 05:35:21 pm

কলকাতা। একসময় বলা হত আলীনগর। প্রতি রাস্তায় কত ইতিহাস ঘিরে রয়েছে একে। তেমনই একটি ইমামবাড়া রয়েছে মেটিয়াবুরুজে। নাম সিবতাইনবাদ শাহী ইমামবাড়া। কী এর ইতিহাস? লখনৌয়ের বড়ো ইমামবাড়ার অনুকরণে এটি ১৮৬৪ সালে স্থাপিত হয় কলকাতায়। ইমামবাড়া শব্দের অর্থ ইমামের বাড়ি। শিয়া মুসলিম পরম্পরা অনুসরণ করলে ইমাম হোসেন আর ইমাম হাসানের স্মরণে নির্মিত স্থাপত্যকে ইমামবাড়া বলে। এই বাড়িগুলো আদতে শিয়া ধর্মাবলম্বীদের মিলনস্থল। মসজিদের মতোই এখানে নিয়মিত পড়া হয় নামাজ। মহরমের জিনিসপত্রগুলিরও স্থান হয় ইমামবাড়ার অন্দরে। প্রধান ঘরে রাখা থাকে, তাজিয়া। কারাবলার যুদ্ধে হত হজরত মহম্মদের নাতি ইমাম হোসেনের সমাধির প্রতিকৃতি। 

তবে এই সিবতাইনবাদ শাহী ইমামবাড়ার ঐতিহ্য লুকিয়ে কিন্তু এর ধর্মীয় ঐতিহ্য নয়, বরং কলকাতার আরও পাঁচটা বিষয়বস্তুর মতোই এর ইতিহাস যথেষ্ট বিত্তবান। ১৮৫৬ সালে লখনৌ দখল করে নেয় ব্রিটিশরা। সিংহাসন ছাড়তে হয় নবাব ওয়াজিদ আলী শাহকে। বিশাল নদীপথ পেরিয়ে অসুস্থ নবাব এসে পৌঁছন কলকাতা। বসতি স্থাপন মেটিয়াবুরুজে। শোনা যায় কলকাতায় ২১ বার গুলি চালিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়েছিল। লখনৌয়ের জীবনে ইতি টানার পর বাকি জীবনটা তিনি উৎসর্গ করেন কলকাতাকে। সুলতানখানা। ছহাজার প্রজা নিয়ে নকল রাজত্ব তাঁর। মাসিক এক লক্ষ টাকা করে পেনশন তখনকার দিনে। আইনি জটিলতা ছাড়া খুব একটা ঘাঁটাতো না ইংরেজরাও। তিনি প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পুষতেন পাইক-বরকন্দাজ, আমির-ওমরাহ, নর্তকী, গাইয়ে-বাজিয়ে কত কী! তাঁর দরবার যেন সংস্কৃতি চর্চার এক অন্য মিলনভূম।

তৈরী করেছিলেন নিজস্ব চিড়িয়াখানাও। যা আজকের আলিপুর চিড়িয়াখানারও বহু আগের। শোনা যায় একবার চিড়িয়াখানা থেকে একটি বাঘ পালিয়ে গিয়েছিল। নদী পেরিয়ে সে পৌঁছে যায় গঙ্গার অন্য পাড়ে। হাওড়ার বোটানিক্যাল গার্ডেনে উঠে সে জখম করে এক সাধারণ মানুষকে। যদিও পরে সেই বাঘটিকে আবার উদ্ধার করা হয়। কত শত স্মৃতিধন্য এই স্থল। নবাব পরে আর কখনো ফিরতে চাননি লখনৌতে। তাঁর মৃত্যুর পর সমাধিও স্থাপন হয় হয় এই কলকাতার বুকেই। যা আজকের সিবতাইনাদ শাহী ইমামবাড়া। একটি শ্বেতপাথরের ফলকে উল্লেখ আছে, শেষ রাজার নামে স্তম্ভ। ডানদিকে রয়েছে একটি অসমাপ্ত স্মৃতিস্তম্ভ। সেটি নবাবের স্ত্রী বেগম হজরত মহলের স্মরণে তৈরী। নবাবের মৃত্যুতে সেই কাজ অর্ধ সমাপ্তই রয়ে যায়। কলকাতার বুকে স্মৃতি আগলে শাশ্বত হয়ে বাঁচেন লখনৌয়ের শেষ নবাব।

×
  • CTVN