হিন্দু ধর্মে ভগবান হনুমানকে শক্তি, সাহস ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে মানা হয়। তাঁকে বলা হয় সংকটমোচন-অর্থাৎ যিনি জীবনের সমস্ত বিপদ ও বাধা দূর করেন। বিশ্বাস করা হয়, যাঁদের উপর হনুমানজির কৃপা থাকে, তাঁদের জীবনে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক শক্তি কখনও কমে না। বিশেষ করে কলিযুগে হনুমানজিকে অন্যতম জাগ্রত দেবতা হিসেবে মানা হয়।
প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় হনুমান জয়ন্তী। এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন পবনপুত্র হনুমান। তাঁকে অনেকেই শিবের রুদ্র অবতার হিসেবেও মনে করেন। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, কয়েকটি বিশেষ রাশির উপর হনুমানজির আশীর্বাদ সারা বছরই বিরাজ করে। এই রাশির জাতক-জাতিকারা স্বভাবতই নির্ভীক, উদ্যমী এবং দৃঢ়চেতা হন।
মেষ রাশি
মেষ রাশির অধিপতি গ্রহ মঙ্গল। আবার হনুমানজির সঙ্গেও মঙ্গলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে বলে জ্যোতিষে মনে করা হয়। তাই মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা হনুমানজির বিশেষ কৃপা লাভ করেন। এঁরা সাধারণত সাহসী, দৃঢ়সংকল্প এবং কর্মঠ স্বভাবের হন। কঠিন পরিস্থিতিতেও এঁরা ভেঙে পড়েন না; বরং লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিরলস পরিশ্রম চালিয়ে যান।
সিংহ রাশি
সিংহ রাশির অধিপতি গ্রহ সূর্য। পুরাণে বলা হয়, হনুমানজি সূর্যদেবকে তাঁর গুরু হিসেবে মানতেন। এই কারণেই সিংহ রাশির মানুষের উপরও তাঁর বিশেষ আশীর্বাদ রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই রাশির মানুষদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, প্রাণশক্তি এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা প্রবল থাকে। আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে সমাজে তাঁরা সহজেই নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারেন।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির অধিপতি গ্রহও মঙ্গল, তাই এই রাশির জাতকদের উপরও হনুমানজির কৃপা রয়েছে বলে মনে করা হয়। এঁরা সাধারণত বুদ্ধিমান, গভীর চিন্তাশীল এবং কিছুটা রহস্যময় স্বভাবের হন। হনুমানজির আশীর্বাদে এঁরা কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্য ধরে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে সাফল্য অর্জন করেন।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির অধিপতি গ্রহ শনি। এই রাশির মানুষরা সাধারণত ন্যায়পরায়ণ, উদার এবং দূরদর্শী হন। এই গুণগুলির জন্যই তাঁরা হনুমানজির অত্যন্ত প্রিয় বলে বিশ্বাস করা হয়। ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, পবনপুত্র হনুমান তাঁদের সর্বদা রক্ষা করেন এবং জীবনের নানা বাধা ও নেতিবাচক শক্তি থেকে দূরে রাখেন।