হিন্দু ধর্মের যাঁরা স্ত্রীয়েরা রয়েছেন তাঁরা কেউ কেউ যেমন শাখা-পলা, সিঁদুর পড়েন আবার তেমনই কেউ কেউ গলায় মঙ্গলসূত্র পড়েন। এইসব মূলত মহিলারা তাঁদের স্বামীর মঙ্গলকামনার জন্য পড়ে থাকেন। স্বামি যাতে সুস্থ থাকে, তাঁর যেন দীর্ঘায়ু হয় কিংবা সংসারের মঙ্গলকামনার জন্যও এগুলো পরে থাকেন। যাঁরা মঙ্গলসূত্র পড়েন বা দেখেছেন তাঁরা জানেন মঙ্গলসূত্র যেমনই দেখতে হোক না কেন তাতে কালো রঙের সুতো বা পুথি ব্যবহার করা হবেই। কিন্তু, কেন? মঙ্গলসূত্রতে কোন কারণে কালো রংয়ের পুথি ব্যবহার করা হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক-
শাস্ত্র অনুসারে, কালো রঙকে ঐতিহ্যগতভাবে অশুভ শক্তি, খারাপ নজর বা 'নজর লাগা' থেকে সুরক্ষার প্রতীক হিসাবে দেখা হয়। তাই, মনে করা হয়, এই কালো পুঁতি বা সুতো বিবাহিত নারীকে এবং তার স্বামীকে যেকোনো প্রকার নেতিবাচক শক্তি বা অমঙ্গল থেকে রক্ষা করে। এটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের উপর বাইরের কোনো খারাপ প্রভাব পড়তে দেয় না।
কালো রং দৃঢ়তা এবং স্থায়িত্বের প্রতীক। এই কারণে এটি বিশ্বাস করা হয় যে কালো পুঁতি বৈবাহিক সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত করে। এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, শোওয়ার সময় কী মঙ্গলসূত্র খুলে রাখা যেতে পারে? শাস্ত্র মতে মঙ্গলসূত্র কখনোই খুলে রাখা উচিত নয়। এমনকি, শুতে যাওয়ার সময়তেও খোলা উচিত নয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, সোনা দিয়েই মূলত তৈরী হয় মঙ্গলসূত্র। এই সোনা আবার যুক্ত রয়েছে বৃহস্পতি গ্রহের সঙ্গে। এই গ্রহ আদতে জ্ঞান, সমৃদ্ধি, সৌভাগ্যের প্রতীক। সোনাকে আবার বৈবাহিক সুখের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করা হয়।