আমাদের শরীরের প্রতিটি অংশই সমানভাবে কাজ করে। কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী অংশ হলো পা। সারাদিন হাঁটা, দাঁড়িয়ে কাজ করা কিংবা ভার বহনের ফলে পায়ের ওপরই সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে। অথচ আমরা বেশিরভাগ সময়ই পায়ের যত্ন নিতে ভুলে যাই। নিয়মিত যত্ন নিলে পা সুস্থ, সুন্দর ও আরামদায়ক রাখা সম্ভব। আর তার জন্য প্রতিদিন পা পরিষ্কার রাখা খুবই জরুরি। বাইরে থেকে ফিরে হালকা গরম জলে ও হালকা সাবান দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া উচিত। ধোয়ার পর আঙুলের ফাঁকসহ পুরো পা ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে, কারণ ভেজাভাব থেকে গেলে তার থেকে আবার ফাঙ্গাল সংক্রমণ হতে পারে।
rnপায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে ফাটা ও খসখসে হয়ে যায়। তাই প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পায়ে ময়েশ্চারাইজার, ভ্যাসলিন বা নারকেল তেল লাগানো উপকারী। সপ্তাহে একবার কুসুম গরম জলে পা ভিজিয়ে রেখে পিউমিস স্টোন বা স্ক্রাব দিয়ে মৃত কোষ তুলে ফেললে পা নরম থাকে। নখের যত্নও পায়ের সৌন্দর্য ও সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নখ ছোট ও পরিষ্কার রাখা উচিত। নখ কাটার সময় সোজা করে কাটলে ইনগ্রোন নখের সমস্যা কম হয়। এবং নখের চারপাশে ময়লা জমতে দেওয়া যাবে না।
rnআরামদায়ক জুতো ও স্যান্ডেল ব্যবহার করা পায়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। খুব টাইট বা শক্ত জুতো পায়ে ব্যথা, ফোসকা ও কড়া পড়ার কারণ হতে পারে। সম্ভব হলে দীর্ঘ সময় এক ধরনের জুতো না পরে মাঝে মাঝে পরিবর্তন করা ভালো। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা হাঁটার পর পা একটু উঁচু করে বিশ্রাম নিলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ক্লান্তি কমে। হালকা পায়ের ব্যায়াম ও ম্যাসাজও পায়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে। অর্থাৎ নিয়মিত ও সঠিক যত্ন নিলে পা থাকবে সুস্থ, পরিষ্কার ও সুন্দর। একটু সচেতন হলেই পায়ের অনেক সমস্যাই সহজে এড়ানো সম্ভব।