ডিজিটাল যুগে প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে যেমন সুবিধা বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন জালিয়াতি কিংবা ডেটা হ্যাকিং-এই সব বিপদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের। ফলে প্রযুক্তি জগতের অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন পেশা হয়ে উঠেছে এই ক্ষেত্র।
সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হতে হলে সাধারণত সাইবার সুরক্ষা, কম্পিউটার সায়েন্স, ইনফরমেশন টেকনোলজি, সফটওয়্যার সিস্টেম, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও নেটওয়ার্কিং অথবা ডেটা অ্যানালিটিক্স বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি, ক্লাউড সিকিউরিটি, থ্রেট ইন্টেলিজেন্স এবং সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকলে চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই বাড়ে।
তবে শুধুমাত্র ডিগ্রি থাকলেই হয় না। এই ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা প্রমাণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের কিছু বিশেষ শংসাপত্র (Certification) থাকলে নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন- কম্পটিআইএ সিকিউরিটি+, সিস্টেমস সিকিউরিটি সার্টিফায়েড প্র্যাকটিশনার (SSCP), সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিস্টেমস সিকিউরিটি প্রফেশনাল (CISSP) এবং সার্টিফায়েড ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজার (CISM)। এই সার্টিফিকেটগুলির মাধ্যমে প্রার্থীর প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান যাচাই করা হয়।
ডিগ্রি ও প্রয়োজনীয় শংসাপত্র অর্জনের পর সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রেই চাকরির সুযোগ রয়েছে। শুরুতে সাধারণত সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার অ্যানালিস্ট, সিস্টেম সিকিউরিটি অফিসার, জুনিয়র সাইবার সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েট বা ম্যানেজার হিসেবে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এথিক্যাল হ্যাকার, পেনিট্রেশন টেস্টার, সিকিউরিটি অপারেশন অ্যানালিস্ট বা সিকিউরিটি আর্কিটেক্ট হিসেবেও কাজের সুযোগ তৈরি হয়।
ভারতের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা যেমন ইন্ডিয়ান কম্পিউটার এমার্জেন্সি রেসপন্স টিম, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া কর্পোরেশন এবং সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং-সহ ব্যাঙ্ক, রেল ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলিতেও সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের চাহিদা রয়েছে।
বেতনের ক্ষেত্রেও এই পেশা যথেষ্ট আকর্ষণীয়। নতুনরা বছরে প্রায় ৪ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন। অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাড়লে বার্ষিক বেতন ১৭ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। তাই ভবিষ্যতের নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার গড়তে সাইবার সিকিউরিটি এখন অনেক তরুণের প্রথম পছন্দ।