Calcutta Television Network

পদ্মাসনে আসীন মা ভৈরবীর অজানা নানা কথা

পদ্মাসনে আসীন মা ভৈরবীর অজানা নানা কথা

20 October 2025 , 02:33:47 pm

দশমহাবিদ্যা হল দেবী দুর্গার দশ মহিমান্বিত রূপ, যাদের প্রতিটি রূপের নিজস্ব তাৎপর্য ও শক্তি রয়েছে। এই রূপগুলির মধ্যে ষষ্ঠ রূপ ভৈরবী। ভৈরবী হলেন কালভৈরবের শক্তি এবং ত্রিপুরেভৈরবী নামেও পরিচিত। তান্ত্রিক শাস্ত্র অনুযায়ী, তিনি চৌষট্টি যোগিনীর প্রধান এবং গুপ্ত যোগিনীদের অধিষ্ঠাত্রী।

ভৈরবী রক্তবর্ণা এবং রক্তবস্ত্র পরিধান করে পদ্মাসনে আসীন। গলায় থাকে মুণ্ডমালা, যা তাঁর ভয়ঙ্কর ও শক্তিশালী দিককে প্রতিফলিত করে। দেবী রজোগুণসম্পন্না, অর্থাৎ সৃষ্টিশীল শক্তির প্রতীক। যদিও চতুর্ভুজা হলেও তিনি অস্ত্রহীনা, যা দেখায় যে তাঁর শক্তি অস্ত্রের প্রয়োজন ছাড়াই সক্রিয়।

ভৈরবীর হাতের ধারা অনুযায়ী শক্তির বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখা যায় বাম হাতে থাকে পুস্তক ও অভয় মুদ্রা, যা বিদ্যা ও সুরক্ষার প্রতীক। ডান হাতে রাখা বরমুদ্রা ও জপমালা নির্দেশ করে, তিনি সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদান করেন।

ভৈরবীকে উপাসনা করা হয় মূলত সৃষ্টিশীলতা, জ্ঞান ও ধন-সম্পদ অর্জনের জন্য। তাঁর শক্তি মানুষের মন, আত্মা ও দেহকে প্রভাবিত করে। তান্ত্রিক উপাসকরা ভৈরবীর মাধ্যমে গুপ্ত জ্ঞান, যোগিনী শক্তি এবং আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভের চেষ্টা করেন।

ভৈরবীর উপস্থিতি দেখায় যে ভয়ঙ্কর শক্তি ও করুণার মিশ্রণ একত্রিত হলে পৃথিবীতে সৃষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। তিনি যে রূপে আসেন, তা ভক্তদের মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং তাদের জীবনযাত্রায় স্থিতি ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

ভৈরবী হল সেই আদি শক্তি, যা রজোগুণের মাধ্যমে সৃষ্টিকে পরিচালিত করে। তিনি শুধু ভয়ঙ্কর নয়, বরং জ্ঞান, সমৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক শক্তির উৎস। দশমহাবিদ্যার এই রূপের পুজো করলে মানুষ জীবনে সমৃদ্ধি ও সুরক্ষা লাভ করে বলে বিশ্বাস করা হয়।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN