হিমালয়ের নির্জন কোলে এমন একটি মন্দির রয়েছে, যেখানে প্রেমের ইতিহাস যেন আজও জীবন্ত। উত্তরাখণ্ডের ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির যাকে হিন্দু পুরাণে শিব ও পার্বতীর বিয়ের পুণ্যভূমি বলে মনে করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এখানেই দেবাদিদেব শিব এবং হিমালয়কন্যা পার্বতীর শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।
এই মন্দিরের সবচেয়ে রহস্যময় ও পবিত্র অংশ হল 'অখণ্ড ধুনী'-একটি চিরন্তন অগ্নিকুণ্ড। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, শিব-পার্বতীর বিয়ের সময় যে আগুন জ্বলেছিল, তা আজও প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে জ্বলছে। নবদম্পতিরা সেই আগুনের ভস্ম কপালে ধারণ করে প্রতিজ্ঞা করেন-তাঁদের ভালোবাসাও যেন এই অগ্নিশিখার মতোই চিরন্তন হয়।
মন্দির চত্বরে রয়েছে চারটি পবিত্র কুণ্ড-ব্রহ্ম, বিষ্ণু, রুদ্র ও সরস্বতী কুণ্ড। পুরাণ অনুযায়ী দেবতারা এখানে স্নান করে বিয়ের আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। আজও বহু যুগল এই কুণ্ডের জল মাথায় ছিটিয়ে নিজেদের সম্পর্কের পবিত্রতার আশীর্বাদ চান।
হিমালয়ের পাহাড়, পাইন বনের ঘ্রাণ আর মেঘের আনাগোনায় ঘেরা এই গ্রামটি আধুনিক শহরের কোলাহল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। সোনপ্রয়াগ থেকে পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যখন কোনও যুগল এখানে পৌঁছান, সেই যাত্রাই তাঁদের সম্পর্কের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে।
বর্তমানে অনেক তরুণ-তরুণী আড়ম্বরপূর্ণ ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের বদলে এই ঐতিহ্যবাহী মন্দিরেই বিয়ে করতে আগ্রহী হচ্ছেন। কারণ এখানে জাঁকজমকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় আধ্যাত্মিকতা, বিশ্বাস ও আত্মিক বন্ধনকে। বরফঢাকা শৃঙ্গের সামনে প্রাচীন মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিয়ে-অনেকের কাছেই এটি এক স্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতা।
অর্থের দিক থেকেও এই বিয়ে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। প্রায় ৩৫-৪০ হাজার টাকার মধ্যেই মন্দিরে পুরোহিত ও আচার সম্পন্ন করা যায়। উপরন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া শংসাপত্র পরবর্তীতে আইনি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও সহায়ক হয়।
সন্ধ্যা নামলে পাহাড়ি ঠান্ডায় অগ্নিকুণ্ডের উষ্ণতা আর মন্দিরের আরতির সুরে তৈরি হয় এক অপার্থিব পরিবেশ। সেই মুহূর্তে মনে হয়-ভালোবাসা সত্যিই অমর, আর তারই চিরন্তন সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ত্রিযুগীনারায়ণ মন্দির।