Calcutta Television Network

শৈশবে যাঁকে ফল ভেবে খেতে গেলেন, পরে তিনিই হলেন বজরংবলীর গুরু!

শৈশবে যাঁকে ফল ভেবে খেতে গেলেন, পরে তিনিই হলেন বজরংবলীর গুরু!

3 April 2026 , 07:23:22 pm

হনুমান জয়ন্তীর পবিত্র দিনে স্মরণ করা হয় মহাবীর হনুমানের অলৌকিক জন্মকাহিনী। কিন্তু আজ যদিও হনুমান জয়ন্তী নয়, মনে করা হয় তাঁর কথা স্মরণ  করলে সমস্ত বাধা-বিপত্তি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যায়। পুরাণ মতে, তাঁর জন্ম কোনও সাধারণ ঘটনা নয়; বরং দেবতাদের পরিকল্পনায় পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছিল এক মহাশক্তির প্রতীক।

প্রাচীন কাহিনী অনুযায়ী, স্বর্গের অপ্সরা অঞ্জনা এক অভিশাপের ফলে পৃথিবীতে বানরী রূপে জন্ম নেন। পরে তিনি বানরবীর কেশরীর সঙ্গে বিবাহ করেন। কিন্তু অঞ্জনার মনে ছিল এক গভীর আকাঙ্ক্ষা-এক অসাধারণ শক্তিশালী সন্তানের জন্ম দেওয়া। সেই আশায় তিনি কঠোর তপস্যা শুরু করেন।

অঞ্জনার তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবাদিদেব শিব তাঁকে বর দেন যে, তাঁরই এক রুদ্রাংশ থেকে জন্ম নেবে এক মহাবীর সন্তান। এই কারণেই হনুমানকে অনেক পুরাণে শিবের রুদ্রাংশ অবতার বলা হয়।

একই সময়ে অযোধ্যায় রাজা দশরথ পুত্র লাভের আশায় পুত্রেষ্টি যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। সেই যজ্ঞের প্রসাদস্বরূপ পাওয়া ঐশ্বরিক পায়েস তাঁর রাণীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়, যার ফলেই জন্ম নেন রাম ও তাঁর ভ্রাতারা। লোককথা অনুসারে, সেই ঐশ্বরিক শক্তির একটি অংশ দেবতাদের ইচ্ছায় বায়ু অঞ্জনার কাছে পৌঁছে দেন। এই কারণেই হনুমানকে ‘পবনপুত্র’ বলা হয়।

শৈশব থেকেই তাঁর অসাধারণ শক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। একবার তিনি সূর্যকে পাকা ফল ভেবে আকাশে লাফিয়ে ধরতে গিয়েছিলেন-এই কাহিনী আজও ভক্তদের বিস্মিত করে।

ভারতের বিভিন্ন স্থানে বছরে দু’বার হনুমান জয়ন্তী পালিত হয়-একবার চৈত্র মাসের পূর্ণিমায়, আবার কোথাও কার্তিক মাসেও। ভক্তদের বিশ্বাস, যেখানে রামকথা পাঠ হয়, সেখানেই কোনও না কোনও রূপে হনুমানের উপস্থিতি থাকে।

এই জন্মকাহিনী আমাদের শেখায়-ভক্তি, তপস্যা এবং ঈশ্বরের কৃপা মিলেই সৃষ্টি হয় সত্যিকারের শক্তি। আর সেই শক্তিরই জীবন্ত প্রতীক হলেন মহাবীর হনুমান। 

এখানে আর একটা কথা না বললেই নয়, বজরংবলী স্বয়ং সূর্যদেবের কাছে গিয়ে তাঁর কাছ থেকে শিক্ষালাভ করেন। তাঁর বুদ্ধি এবং জ্ঞান এতোই প্রখর ছিল যে, সূর্য দেবের চলমান রথের বিপরীত দিকে ছুটে খুব কম সময়ে জ্ঞানলাভ করেছিলেন। 

এই দিনে বজরংবলীর মূর্তিতে সিঁদুর ও জুঁই তেল অর্পণ করা হয়। জবা বা গোলাপ ফুল নিবেদন করে ভক্তরা ১০৮ বার জপ করেন... 'ওম হন হনুমতে নমঃ'। সঙ্গে পাঠ করা হয় হনুমান চালিশা এবং শেষে দরিদ্রদের অন্নদান করার রীতি রয়েছে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN