হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন দেবদেবীর পূজায় নির্দিষ্ট ফুলের ব্যবহার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। “কোন ঠাকুরের কোন ফুল পছন্দ” এই বিষয়টি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভক্তি, প্রতীকী অর্থ ও প্রাচীন শাস্ত্রের নির্দেশনা।
ভগবান শিবের পূজায় ধুতুরা ও বেলপাতা সবচেয়ে প্রিয় হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া অপরাজিতা ও আকাশমণি ফুলও শিবকে অর্পণ করা হয়। ধুতুরা ফুল শিবের ত্যাগ ও সংযমের প্রতীক। অন্যদিকে, ভগবান বিষ্ণু ও শ্রীকৃষ্ণের পূজায় তুলসী পাতা অপরিহার্য। তুলসীকে পবিত্রতা ও ভক্তির প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া শ্রীকৃষ্ণের পূজায় পারিজাত ও কদম্ব ফুলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
মা লক্ষ্মীর পূজায় পদ্মফুল সবচেয়ে প্রিয়। পদ্ম ধন-সম্পদ, সৌভাগ্য ও পবিত্রতার প্রতীক। তাই লক্ষ্মী পূজায় পদ্ম অর্পণ করলে দেবীর কৃপা লাভ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়। অন্যদিকে, মা সরস্বতীর পূজায় সাদা ফুল যেমন শিউলি, বেলি বা গন্ধরাজ ব্যবহৃত হয়। সাদা রঙ জ্ঞান, পবিত্রতা ও শান্তির প্রতীক।
মা দুর্গার পূজায় জবা ফুল অত্যন্ত প্রিয়। বিশেষ করে লাল জবা শক্তি ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এছাড়া গাঁদা ফুলও দুর্গাপূজায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা আনন্দ ও উৎসবের প্রতীক।
গণেশের পূজায় দূর্বা ঘাস ও লাল ফুল বিশেষভাবে প্রিয়। দূর্বা দীর্ঘায়ু ও শুভতার প্রতীক হিসেবে গণ্য।
সার্বিকভাবে বলা যায়, প্রতিটি দেবদেবীর পূজায় নির্দিষ্ট ফুলের ব্যবহার শুধু একটি রীতি নয়, বরং এটি ভক্তির এক গভীর প্রকাশ। সঠিক ফুল অর্পণ করলে পূজা আরও অর্থবহ ও সম্পূর্ণ হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।