পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি বা মূর্তি ঘরে কোথায় রাখা উচিত—এই বিষয়টি বাস্তু শাস্ত্র ও ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশেষ গুরুত্ব পায়। পঞ্চমুখী হনুমান রূপে ভগবান হনুমানকে পাঁচটি মুখসহ দেখা যায়, যা শক্তি, সুরক্ষা ও অশুভ শক্তি দমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।প্রথমত, বাস্তু মতে পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম বা দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে রাখা সবচেয়ে উপযুক্ত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিক থেকে নেতিবাচক শক্তি প্রবেশ করতে পারে, আর হনুমানের এই রূপ সেই শক্তিকে প্রতিহত করতে সাহায্য করে। অনেকেই প্রধান দরজার বিপরীত দিকে এই ছবি রাখেন, যাতে বাইরে থেকে আসা অশুভ প্রভাব ঘরে প্রবেশ করতে না পারে।দ্বিতীয়ত, পূজার ঘর বা ধ্যানের স্থানে এই ছবি রাখা খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন নিয়ম করে প্রার্থনা বা ধ্যান করলে মানসিক শান্তি ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। ছাত্রছাত্রী বা কর্মজীবীদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী বলে ধরা হয়, কারণ এটি মনোযোগ ও সাহস বাড়াতে সাহায্য করে।তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি কখনোই শোবার ঘরে বা রান্নাঘরে রাখা উচিত নয়। এই স্থানগুলো ব্যক্তিগত বা দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য, যেখানে এই ধরনের শক্তিশালী ধর্মীয় প্রতীক রাখা ঠিক নয় বলে অনেকে মনে করেন। এছাড়া ছবিটি যেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং চোখের সমান উচ্চতায় রাখা হয়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে, পঞ্চমুখী হনুমানের পাঁচটি মুখ পাঁচটি দিক ও শক্তির প্রতীক—যা ভক্তকে সুরক্ষা, সাহস, জ্ঞান এবং সফলতা প্রদান করে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই অনেকেই বিশেষভাবে এই রূপের পূজা করে থাকেন।
যদিও এসব বিশ্বাসের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, তবুও এগুলো মানুষের মানসিক শক্তি ও ইতিবাচক চিন্তাভাবনা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। বিশ্বাসের শক্তিই এখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে।সবশেষে বলা যায়, পঞ্চমুখী হনুমানের ছবি সঠিক স্থানে রাখলে তা প্রতীকীভাবে ঘরের সুরক্ষা, শান্তি এবং ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়।