প্রতিবছর কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। এটি একটি রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক তিথি। বিশ্বাসের কথায়, এই দিনে মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন পূর্বপুরুষদের আত্মা। তবে শুধুই আত্মা নয়, আসে নানা অশুভ শক্তি, প্রেতাত্মা ও দৈত্যরাজের দলে। এই কারণে এই দিনটি বাংলার লোকজীবনে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস রয়েছে কেন চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। একজনের মতে, দেবী কালী চামুণ্ডা রূপে ভূত এবং প্রেতাত্মার আগমনের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে ভক্তের বাড়িতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটান। অন্যদিকে, কেউ মনে করেন, পূর্বপুরুষদের আত্মা এই তিথিতে মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন। তবে সবমিলিয়ে মূল উদ্দেশ্যই অশুভ শক্তি দূর করা। তাই, চোদ্দটি প্রদীপ জ্বালানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই আলো সংসারে সকল রকমের অশুভ শক্তি নাশ করে, ঘরে শান্তি ও সুস্থতা বজায় রাখে।
এদিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল চোদ্দ প্রকার শাক খাওয়া। পণ্ডিত রঘুনন্দনের মতে, সেই চোদ্দ শাক হল- পলতা, সরষে, নিম পাতা, শুশনি শাক, জয়ন্তী শাক, ওল শাক, ভাটপাতা, কেঁউ শাক, বেতো শাক, পলতা শাক, গুলঞ্চ শাক, শাঞ্চে শাক, সৌলফ শাক।
স্থানভেদে শাকের নাম কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। এই শাকগুলো খাওয়া এবং স্নান করা অশুভ শক্তি দমন ও স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতীক।
২০২৫ সালে ভূত চতুর্দশী অনুষ্ঠিত হবে ২০ অক্টোবর। কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী শুরু হবে ১৯ অক্টোবর দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ অক্টোবর দুপুর ৩টা ৪৪ মিনিটে। এই দিনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষ পুজো, প্রসাদ ও প্রথাগত রীতি মেনে উৎসব উদযাপন করবেন।