সনাতন হিন্দু শাস্ত্র ও পুরাণ অনুযায়ী, নবমী তিথিতে লাউ খাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ শাস্ত্রে এই দিনে লাউ খাওয়াকে গোমাংস ভক্ষণের সমতুল্য অপরাধ বা মহাপাপ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
লোকবিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় ধারণা অনুযায়ী, বিশেষ কিছু তিথিতে নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলে বংশের ক্ষতি বা অমঙ্গল হয়। নবমীতে লাউ খাওয়াকে তেমনই এক অমঙ্গলকর কাজ হিসেবে মনে করা হয়। পুরাণ অনুযায়ী, এই তিথিতেই দেবী চণ্ডিকা বা দুর্গা মহিষাসুরের সঙ্গে চূড়ান্ত ও ভয়ংকর যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং তাকে বধ করেন। এটি অসুরের ওপর দেবীর বিজয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত। কালিকা পুরাণ অনুসারে, মহানবমীতে দেবী প্রতিমার সামনে সংকল্পিত মহাপূজা ও বলিদানের বিধান রয়েছে। এই দিনে নানা ঐতিহ্যবাহী বলি ও নৈবেদ্য অর্পণ করা হয়। শাস্ত্রে কুষ্মন্ডা বা চালকুমড়ো অথবা লাউকে বলি দেওয়ার প্রথারও উল্লেখ আছে। সেই কারণেই নবমীতে চালকুমড়ো ও লাউ খাওয়াকে পশু-মাংস ভক্ষণের সমতুল বলে মনে করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মে খাবারকে সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক—এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। বিশেষ ধর্মীয় তিথি বা পূজার দিনগুলোতে বিশেষ করে দুর্গাপূজার মহানবমী তিথিতে শরীর ও মন শুদ্ধ রাখতে সাত্ত্বিক আহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্ত্র মতে, নির্দিষ্ট তিথিতে কিছু সবজি তার গুণ হারিয়ে তামসিক বা ক্ষতিকর উপাদানে রূপান্তরিত হয়, তাই নবমী তিথিতে লাউ খাওয়কে বর্জন করতে বলা হয়েছে। অনেকের মতে এই নবমী তিথিতে লাউ খেলে পুরুষের পৌরুষত্বের হানি ঘটে,ফলে বংশ নাশের সম্ভাবনা থাকে।
তাই নবমী তিথিতে লাউ খাওয়া ত্যাগ করে দেবী দুর্গাকে মা সিদ্ধি দাত্রী রূপে পূজা করুন। তাঁর উপাসনায় ভক্তরা আধ্যাত্মিক সিদ্ধি, জ্ঞান ও সমৃদ্ধি লাভ করে থাকেন।