দুর্গাপুজোর সময় আমরা সকলেই শুনি মহিষাসুরমর্দিনী মা দুর্গার কাহিনি। দেবী দুর্গা কীভাবে মহিষাসুরকে বধ করে দেবলোককে রক্ষা করেছিলেন, সেই গল্প তো আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু আমরা কি সকলে এটা জানি যে, এই মহিষাসুর আসলে কার সন্তান ছিলেন? কে ছিলেন তাঁর বাবা-মা?
পুরাণে বলছে যে, মহিষাসুরের পিতা ছিলেন রম্ভ নামের এক শক্তিশালী অসুর। তিনি দনুর পুত্র ছিলেন। আর তাঁর মাতা ছিলেন এক মহিষী, অর্থাৎ স্ত্রী মহিষ। পুরান অনুসারে, রম্ভ ও তাঁর ভাই করম্ভ সন্তান লাভের আশায় কঠোর তপস্যা করেছিলেন। এরপর নানা ঘটনার পর অগ্নিদেব রম্ভকে বর দিলেন যে, তিনি যে নারীকে ভালোবাসবেন, তাঁর গর্ভে এক শক্তিশালী সন্তানের জন্ম হবে। এরপর রম্ভ এক স্ত্রী মহিষীর প্রতি আকৃষ্ট হলেন এবং তাঁদের মিলন থেকেই জন্ম হলো মহিষাসুরের।
এই মহিষের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই মহিষাসুর কখনও মহিষের রূপ ধারণ করতে পারতেন। পরবর্তীকালে তিনি কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মার কাছ থেকে বর লাভ করেন, কোনও পুরুষ তাঁর মৃত্যুর কারণ হতে পারবে না। এরপর নিজের শক্তির অহংকারে তিনি দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য দখল করলেন।
তারপর যেটি হয় তা আমাদের সকলেরই জানা, তখন দেবতাদের সম্মিলিত শক্তি থেকে আবির্ভূতা হলেন দেবী দুর্গা । দীর্ঘ যুদ্ধের শেষে দেবী মহিষাসুরকে বধ করলেন। সেই কারণেই তিনি মহিষাসুরমর্দিনী নামে পরিচিত। তবে মহিষাসুরের জন্মকাহিনি কিন্তু সব পুরাণে একইভাবে বর্ণিত হয়নি। কোথাও কোথাও এই ঘটনার বিবরণ নেই।