ভাবতে অবাক লাগে! সেই বৈদিক যুগেও যে বিজ্ঞানের চর্চা হত, তা এখনকার যুক্তিবাদীরা হয়তো বিশ্বাস করবে না এবং মানতেও চাইবে না, এটাকে বুজরুকি বলবে। সুদুর প্রসারী চিন্তা ভাবনা করে পৌরাণিক কাহিনীতে মা লক্ষ্মীর বাহন হিসাবে পেঁচাকে উল্লেখ করা হয়েছে, এটা যে কতটা যুক্তিগ্রাহ্য ও বিজ্ঞান নির্ভর তা আলোচনা করলেই বুঝতে পারবেন।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে,মা লক্ষ্মী হলেন মান-সম্মান,ধন-দৌলত,অর্থ-সম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী। সমুদ্র মন্থন থেকে উত্থিত মা লক্ষ্মী বিপুল পরিমান অর্থ সম্পদ মণি-মাণিক্য তাঁর ঝাঁপি ভরে নিয়ে আসেন। শ্রী বিষ্ণুর নির্দেশে মা লক্ষ্মী পূর্ণিমার জ্যোৎস্না প্লাবিত গভীর রাতে সমস্ত জেগে থাকা দেবতাদের গৃহে ঐ সম্পদ বিতরণ শুরু করেন। অতি দ্রুত এই কাজ শেষ করার জন্য পেঁচাকে তাঁর বাহন করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কারণ হল,পেঁচাই একমাত্র পাখি যে রাতের বেলা সব কিছু পরিষ্কার দেখতে পায়। তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হল,পেঁচার চোখের রেটিনাতে "রড" কোষের সংখ্যা বেশী থাকায় রাতের বেলা পেঁচা সব কিছু পরিষ্কার দেখতে পায়। যেহেতু মা লক্ষ্মী গভীর রাতে একাধিক ভক্তের বাড়িতে যেতে হয়, সেই কাজ দ্রুততর করার জন্য পেঁচাকেই বাহন হিসাবে বেছে নিয়েছেন।
এ ছাড়াও মা লক্ষ্মী হলেন শস্যের দেবী। তিনি সুজলা সুফলা ধরণীর আহ্বায়ক। ইঁদুর, পঙ্গপাল, প্রতিটি কীট পতঙ্গ প্রভৃতি হানি কারক পোকা মাকড় গভীর রাত্রে বেরিয়ে শস্যের ক্ষতি করে থাকে। ঠিক সেই সময়ে ধৈর্য ধরে অন্ধকারে থেকে পেঁচা নিখুঁত লক্ষ্যে তাকে শিকার করে ফসলকে রক্ষা করে। কীট পতঙ্গ ইঁদুর খেয়ে সে শস্যকে রক্ষা করে, তাই শস্য রক্ষক পেঁচাকে মা লক্ষ্মী বাহন হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
তাই বলা হয় পেঁচা হল ধৈর্যের প্রতীক। কোজাগরী কথাটির মধ্যেও ধৈর্যের আভাস লুকিয়ে আছে। মা বলছেন, রাতে আমার জন্য যে ধৈর্য ধরে জেগে থাকবে, আমি তার গৃহে অধিষ্ঠান করব। তাই তিনি ধৈর্যের প্রতীক পেঁচাকে নিজের বাহন হিসাবে বেছে নিয়েছেন।