গঙ্গা আমাদের কাছে পবিত্রতার প্রতীক। হিন্দু ধর্মে গঙ্গাকে দেবীরূপে পূজা করা হয়। কিন্তু আমাদের অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, গঙ্গা কি সত্যিই ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী? নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও পৌরাণিক কাহিনি?
পুরাণের বিভিন্ন বর্ণনা অনুসারে, গঙ্গা দেবীর পরিচয় বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়। কিছু পুরাণকথায় গঙ্গাকে ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীকে কেন্দ্র করে একটি কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। সেই কাহিনি অনুসারে, গঙ্গা ও সরস্বতীর মধ্যে বিরোধের পর তাঁদের পৃথিবীতে নদীরূপে অবতীর্ণ হওয়ার অভিশাপ দেওয়া হয়।
আবার গঙ্গার সঙ্গে ভগবান বিষ্ণু সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর উৎপত্তির বিষয়। প্রচলিত পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, গঙ্গা বিষ্ণুর চরণ থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন। এই কারণেই গঙ্গার জলকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় এবং বহু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে তা ব্যবহার করা হয়।
তবে গঙ্গার সঙ্গে মহাদেব শিবের সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। জানা যায় যে, রাজা ভগীরথের তপস্যায় গঙ্গা যখন স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, তখন তাঁর প্রবল স্রোতকে ধারণ করার জন্য শিব তাঁকে নিজের জটায় স্থান দেন। এই কারণেই মহাদেবের নাম হয় গঙ্গাধর। তবে কিছু পুরান কথায় গঙ্গা কে ভগবান বিষ্ণুর স্ত্রী বলা হলেও সব ধর্মগ্রন্থে এই পরিচয় সমান ভাবে স্বীকৃত নয়।