ঢাক থেমেছে। বিসর্জনের জলে মিশেছে সিঁদুরের রং। প্যান্ডেলের আলো একে একে নিভছে। বিজয়ার প্রণাম আর মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে শেষ হলো আরও একটি শারদোৎসব। কিন্তু বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো কি সত্যিই শেষ হয়? বোধহয় না। একদিকে আজ বিজয়ার বিষাদ, অন্যদিকে মনে মনে শুরু হয়ে গিয়েছে নতুন এক কাউন্টডাউন আর কতদিন পর আবার ঢাক বাজবে, কাশফুল দুলবে, প্যান্ডেলে আলো জ্বলবে, আর ঘরে ফিরবেন উমা? সেই অপেক্ষার প্রথম হিসাবটাও এ বার সামনে।
২০২৭-এর পুজো কবে?
আগামী বছরের দুর্গাপুজো এ বারের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে এসেছে । ৩০ সেপ্টেম্বর মহালয়া দিয়ে শুরু হবে পুজোর আবহ। এরপর ১ অক্টোবর থেকে শুরু হবে দেবীপক্ষের প্রতিপদ। আর দুর্গাপুজোর মূল পর্ব শুরু হবে ৫ অক্টোবর, মঙ্গলবার মহাষষ্ঠীর দিন। অর্থাৎ শরতের উৎসবের জন্য ২০২৭-এ আরও একটু আগেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে বাঙালিকে। দু’দিন অষ্টমী, থাকছে বাড়তি পুজোর আনন্দ । ২০২৭-এর পুজোর ক্যালেন্ডারেও রয়েছে বিশেষ চমক। মহাষ্টমী পালিত হবে দু’দিন ধরে। ফলে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত পুজোর আবহ থাকবে দীর্ঘায়িত।
এক নজরে দেখে নিন—
৩০ সেপ্টেম্বর — মহালয়া
৫ অক্টোবর — মহাষষ্ঠী
৬ অক্টোবর — মহাসপ্তমী
৭ অক্টোবর — মহাষ্টমী
৮ অক্টোবর — মহাষ্টমী
৯ অক্টোবর — মহানবমী
১০ অক্টোবর — বিজয়া দশমী
অর্থাৎ ২০২৭-এর দুর্গাপুজোর মূল দিনগুলো জুড়েই থাকবে উৎসবের দীর্ঘ আমেজ। নৌকায় আসবেন মা, গজে ফিরবেন | দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্যতম আকর্ষণ হল দেবীর আগমন ও গমনের বাহন। ২০২৭ সালেও সেই হিসাব বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সপ্তমী পড়েছে বুধবার। প্রচলিত শাস্ত্রীয় গণনা অনুযায়ী, বুধবার সপ্তমী হলে দেবীর আগমন হয় নৌকায়। লোকবিশ্বাসে নৌকায় দেবীর আগমনকে একদিকে শস্য-সমৃদ্ধি ও মনোবাঞ্ছা পূরণের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি, বন্যা বা প্লাবনের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। আর বিজয়া দশমী পড়েছে রবিবার। সেই হিসেবে দেবীর গমন হবে গজে। গজ বা হাতিকে দেবীর অন্যতম শুভ বাহন হিসেবে ধরা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গজে দেবীর গমন মর্ত্যে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং প্রয়োজনমতো বৃষ্টির বার্তা বহন করে।
দুর্গাপুজোর বিসর্জনের পর বাঙালির উৎসবের ক্যালেন্ডার অবশ্য খালি হয়ে যাচ্ছে না। ১৪ অক্টোবর আসবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এরপর ২৮ অক্টোবর কালীপুজো। আর তার ঠিক তিন দিন পর, ৩১ অক্টোবর ভাইফোঁটা। অর্থাৎ ২০২৭-এর শরৎ-হেমন্তও সাজানো থাকবে একের পর এক উৎসবে।