দুর্গাপুজোর নবমী তিথিতে বলি দেওয়ার প্রথা বহু প্রাচীন। কিন্তু জানেন কি, এই প্রথার নেপথ্যে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস, পৌরাণিক কাহিনি এবং প্রতীকী তাৎপর্য?
হিন্দু শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে, নবমী তিথি দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে দেবীশক্তির আরাধনার মাধ্যমে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠা কামনা করা হয়। প্রাচীনকালে বিভিন্ন শাক্ত উপাসনায় দেবীকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে পশুবলির প্রচলন ছিল। সেই ঐতিহ্যের প্রভাবেই দুর্গাপুজোর নবমীতে কিছু মন্দির ও পরিবারে বলির রীতি আজও দেখা যায়।
তবে বলি দেওয়ার অর্থ শুধু পশুবলি নয়। এর একটি প্রতীকী ব্যাখ্যাও রয়েছে। অনেকের মতে, প্রকৃত বলি হলো নিজের ভিতরের কামনা, ক্রোধ, লোভ, হিংসা ও অহংকারকে বিসর্জন দেওয়া। অর্থাৎ, নিজের মনের অশুভ প্রবৃত্তিকে জয় করাই দেবী আরাধনার অন্যতম শিক্ষা।তবে বর্তমানে বহু দুর্গাপুজোয় পশুবলির পরিবর্তে কুমড়ো, আখ বা অন্যান্য প্রতীকী উপাচারের মাধ্যমে এই রীতি পালন করা হয়। সব জায়গায় বলি দেওয়ার প্রথা নেই।
আসলে নবমীর শিক্ষা হলো—অশুভের বিনাশ এবং শুভের প্রতিষ্ঠা। দেবী দুর্গার আরাধনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সত্য, সাহস, সংযম ও মানবিকতার জয়ই জীবনের প্রকৃত বিজয়।