Calcutta Television Network

ভুলেও লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা বাজাবেন না, সংসারে আসতে পারে অর্থ কষ্ট !

ভুলেও লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা বাজাবেন না, সংসারে আসতে পারে অর্থ কষ্ট !
22 October 2026 • 03:52:34 pm

দুর্গা পূজা শেষ হতেই আপামর বাঙালী হিন্দু পরিবার মেতে ওঠে লক্ষ্মী পূজার আয়োজনে। শাস্ত্রের বিধান মেনে সমস্ত দেবদেবীর পূজায় ঘন্টা বাজানোর রীতি থাকলেও  সনাতন ধর্মে লক্ষ্মী পূজায় ঘণ্টা বাজানো নিষেধ করা হয়েছে। বিষ্ণুপ্রিয়া দেবী লক্ষ্মী হলেন অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির, অত্যাধিক কোলাহল বা তীব্র শব্দ তাঁর পছন্দ নয়।  কেন মা লক্ষ্মী কোলাহল ও তীব্র শব্দ পছন্দ করেন না, আজ জানাব সেই তথ্য।

পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, ঘণ্টাকর্ণ ছিলেন রাক্ষসকুলের একজন ভয়ঙ্কর দৈত্য। পূর্ব জন্মে স্বর্গবাসী হয়েও মারাত্মক অপরাধের কারণে বিষ্ণুর অভিশাপে রাক্ষসকুলে জন্ম নেন,তারপর  থেকে  তিনি ভগবান বিষ্ণুকে শত্রু মনে করে চরম বিরোধী হয়ে ওঠেন। বিষ্ণুর নাম শুনলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠতেন। সেই কারণে কোনোভাবেই যেন তাঁর কানে বিষ্ণু নাম প্রবেশ করতে না পারে, সেই জন্য তিনি তাঁর দুই কানে দুটি ভারী ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখতেন। কেউ তাঁর সামনে বিষ্ণুর নাম উচ্চারণ করলেই তিনি জোরে জোরে মাথা দুলিয়ে ঘণ্টার আওয়াজ করতেন যাতে বিষ্ণু নাম তাঁর কানে না ঢোকে। কানে ঘণ্টা পরিধান করার এই অদ্ভুত আচরণের কারণেই তাঁর নাম হয় 'ঘণ্টাকর্ণ'।

পৌরাণিক ও লোক বিশ্বাস মতে, দেবী লক্ষ্মী শান্ত পরিবেশ পছন্দ করেন। অতিরিক্ত শব্দ বা ঘণ্টার আওয়াজ তাঁর চঞ্চলতা ও অসন্তুষ্টির কারণ  বলে মনে করা হয়। অভিজ্ঞ পন্ডিতগণ মনে করেন বাড়িতে লক্ষ্মী দেবীর পূজার সময় ঘন্টা বাজালে ঘন্টার ধ্বনিতে ঘন্টাকর্ণ নামক রাক্ষসের অশুভ উপস্থিতির প্রতিফলন ঘটে,যা দেবী লক্ষ্মীর অপছন্দ। সেই কারণে মা লক্ষ্মী গৃহ ত্যাগ করেন। দেবীর বিদায়ের ফলে সেই ঘরে অলক্ষ্মীর আগমন ঘটে এবং সংসার দুঃখ, দারিদ্র্য ও অশান্তিতে ভরে ওঠে। গৃহে মা লক্ষ্মী না থাকলে অর্থ কষ্ট দেখা দেয়,তাই শাস্ত্রে লক্ষ্মী পূজায় ঘন্টা  বাজাতে নিষেধ করা হয়েছে।

লক্ষ্মী পূজায় ঘণ্টার বদলে শুধু শঙ্খ  বাজানোর শাস্ত্রীয় বিধান রয়েছে, যা দেবীর প্রিয় ও শুভ বলে গণ্য করা হয়।