ভারতীয় সনাতন ধর্মের শাস্ত্র অনুযায়ী,দুর্গা পুজোর বিজয়া দশমীর বিষন্নতার রেশ কাটিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে শুরু হয় কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর প্রস্তুতি। ধন সম্পদ ও ঐশ্বর্যের দেবী মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন আপামর হিন্দু বাঙালীরা। কিন্তু জানেন কি কিভাবে তিনি বিত্ত, বৈভব, ধন রত্ন,সম্পদ, ঐশ্বর্যের দেবী হয়ে উঠলেন? কেন তিনি গভীর রাতে ভক্তের দরজায় লক্ষ্মীর ঝাঁপি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন? কোন কোন ভক্তকে তিনি ধন-দৌলত দান করেন? আজ জানাব সেই কাহিনী।
শারদীয়া দুর্গাোৎসবের পর বাংলার ঘরে ঘরে যে লক্ষ্মী পূজা হয় তাঁকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলা হয়। "কে জাগরে",কথাটি অপভ্রংশ ও আঞ্চলিকতা ভেদে হয়ে উঠেছে আজকের কোজাগরী । এই কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার ইতিহাসের সাথে পৌরাণিক কাহিনী অঙ্গাঅঙ্গী ভাবে জড়িত। দেবতা ও অসুরেরা মিলে যে ক্ষীর সাগর মন্থন করেছিলেন,তাতে ক্ষীরসাগর থেকে মোট ১৪টি রত্ন বা মহামূল্যবান বস্তু উঠেছিল। তার মধ্যে একজন ছিলেন মা লক্ষ্মী। সমুদ্র থেকে উত্থানের সময় মা লক্ষ্মী তাঁর ঝাঁপিতে করে প্রচুর ধনরত্ন ,মণি মাণিক্য এনে বিষ্ণুর হাতে দিয়েছিলেন। বিষ্ণুর নির্দেশে দেবী লক্ষ্মী কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে প্রত্যেক দেবতাদের বাড়িতে যান এবং জেগে আছেন এমন দেবতার বাড়িতে সম্পদ প্রদান করেন। সেই রীতি মেনেই বিশ্বাস করা হয়,মর্ত্যে কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী লক্ষ্মী তাঁর ধন রত্নের ঝাঁপি ও আশীর্বাদের ভান্ডার নিয়ে ভক্তদের বাড়িতে যান । তাঁর আশীর্বাদ লাভের জন্য জেগে থেকে যে ভক্তরা লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করেন, তারা দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদ ও কৃপা লাভ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। হয়তো কোন এক পূর্ণিমায় জ্যোৎস্না প্লাবিত গভীর রাতের মাহেন্দ্র ক্ষণে মা লক্ষ্মী আপনার দরজায় এসে দাঁড়বেন এবং আপনার মনোবাঞ্ছা পূরণ করবেন।