হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুশীলনে একাদশী একটি অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ তিথি। চান্দ্র মাসের শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষের একাদশ তিথিকে একাদশী বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই এই তিথিতে উপবাস, ভক্তি ও সংযম পালনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। একাদশী মূলত ভগবান বিষ্ণুর আরাধনার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
একাদশী পালনের ইতিহাসের উল্লেখ আমরা বেদ, পুরাণ ও স্মৃতিশাস্ত্রে পাই। বিশেষ করে পদ্মপুরাণ, বিষ্ণুপুরাণ ও ভাগবত পুরাণে একাদশীর মাহাত্ম্য বিস্তৃতভাবে বর্ণিত হয়েছে। পুরাণ মতে, একাদশী দেবী স্বয়ং ভগবান বিষ্ণুর শক্তি থেকে আবির্ভূত হন, যিনি পাপ বিনাশ করে ভক্তদের মোক্ষ লাভে সহায়তা করেন। এই কারণে একাদশী তিথিতে বিষ্ণু ও তাঁর অবতারদের পূজা বিশেষ ফলদায়ক বলে বিবেচিত।
প্রাচীন ঋষিমুনিরা বিশ্বাস করতেন যে একাদশী উপবাস দেহ ও মনের শুদ্ধি সাধন করে। আয়ুর্বেদীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও একাদশী গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময় উপবাস করলে দেহের হজমশক্তি বিশ্রাম পায় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। ফলে একাদশী শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।
মধ্যযুগে বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে একাদশী পালনের জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পায়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও তাঁর অনুসারীরা একাদশী পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁদের মাধ্যমে বাংলাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে একাদশী একটি সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়।
বর্তমান যুগেও একাদশী ভক্তদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। উপবাস, নামসংকীর্তন, শাস্ত্র পাঠ ও দানধ্যানের মাধ্যমে মানুষ এই দিনে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নতির পথ অনুসরণ করে। এইভাবেই যুগে যুগে একাদশী পালনের ঐতিহ্য প্রবাহিত হয়ে চলেছে।