মহাকাশ গবেষণায় আবারও চমকে দিল বিজ্ঞান। পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা এক গ্রহাণুর মাটিতে পাওয়া গেল ডিএনএ ও আরএনএর গুরুত্বপূর্ণ সব যৌগিক উপাদান। এই গ্রহাণুর নাম রিউগু-যা সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝের গ্রহাণুপুঞ্জে।
এই আবিষ্কারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে বহু পুরোনো প্রশ্ন। অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, জীবনের মৌলিক উপাদান হয়তো মহাকাশ থেকেই পৃথিবীতে এসেছিল। রিউগুর মাটিতে পাওয়া সাম্প্রতিক তথ্য সেই ধারণাকেই আরও জোরালো করছে।
এই গবেষণার মূল সূত্র আসে জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাপান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা পরিচালিত এক ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযানের মাধ্যমে। ২০১৪ সালে রিউগুর উদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল মহাকাশযান '‘হায়াবুসা-২'। দীর্ঘ ছয় বছরের অভিযানের শেষে ২০২০ সালে সেটি নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসে এবং সঙ্গে করে নিয়ে আসে প্রায় ৫.৪ গ্রাম গ্রহাণুর মাটির নমুনা।
এই নমুনা নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। প্রথমে গবেষকেরা সেখানে খুঁজে পান ইউরাসিল, যা আরএনএর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এরপর নতুন গবেষণায় দেখা গেল-ডিএনএ ও আরএনএর মূল পাঁচটি যৌগিক উপাদানেরই উপস্থিতি রয়েছে সেই মাটিতে। এগুলি হল অ্যাডেনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থায়ামিন ও ইউরাসিল।
গবেষণাটি করেছেন জাপানের হোক্কাইডো ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিদ ইয়াসুহিরো ওবা এবং তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Nature Astronomy-এ।
তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন-এর অর্থ এই নয় যে রিউগুতে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। বরং এটি দেখায় যে প্রাণ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক উপাদান মহাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকতে পারে।
অর্থাৎ পৃথিবীর বাইরে থাকা গ্রহাণু ও উল্কাপিণ্ড হয়তো কোটি কোটি বছর আগে এই উপাদানগুলো পৃথিবীতে পৌঁছে দিয়েছিল-যা পরবর্তীতে জীবনের ভিত্তি তৈরি করেছে। নতুন গবেষণা সেই সম্ভাবনাকেই আরও শক্তিশালী করে তুলল।