প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর শিকারিদের কথা উঠলে প্রথমেই যে নামটি মনে আসে, তা হল Tyrannosaurus rex বা টি-রেক্স। শক্তিশালী চোয়াল, বিশাল দেহ আর তীব্র শিকারি প্রবৃত্তির জন্যই একে অনেক সময় ডাইনোসরদের 'রাজা' বলা হয়। সম্প্রতি একটি বিরল জীবাশ্ম আবিষ্কার নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে এই প্রাগৈতিহাসিক দৈত্যকে।
২০০৫ সালে আমেরিকার Montana রাজ্যের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে একটি ডাইনোসরের মাথার খুলি উদ্ধার করেন জীবাশ্মবিদরা। পরে জানা যায়, সেটি তৃণভোজী ডাইনোসর এডমন্টোসরাসের খুলি। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয় হল-খুলির ভেতর গেঁথে রয়েছে একটি বিশাল টি-রেক্সের দাঁত।
প্রায় ৬.৬ কোটি বছর আগের এই জীবাশ্ম এখন একটি জাদুঘরে সংরক্ষিত। গত দুই দশক ধরে বিজ্ঞানীরা খুলিটি নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দাঁতের দাগ এবং ক্ষতচিহ্ন দেখে গবেষকেরা মনে করছেন, এই আবিষ্কার টি-রেক্সের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
এডমন্টোসরাস ছিল শান্ত প্রকৃতির তৃণভোজী ডাইনোসর, যারা গাছপালা, ফল ও বীজ খেয়ে বেঁচে থাকত। বহু জীবাশ্মবিদের ধারণা, এই ধরনের ডাইনোসরই ছিল টি-রেক্সের অন্যতম প্রধান শিকার। তবে খুলিতে যে ভাবে দাঁত গেঁথে রয়েছে, তাতে মনে করা হচ্ছে-টি-রেক্স হয়তো মৃত বা প্রায় মৃত ডাইনোসরের দেহ থেকেও খাদ্য সংগ্রহ করত।
এই গবেষণা থেকে একটি নতুন সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে-টি-রেক্স শুধু শিকার করেই নয়, অনেক সময় মৃত প্রাণীর দেহ থেকেও খাদ্য সংগ্রহ করত। অর্থাৎ তারা ছিল শিকারি (predator) এবং মৃতভোজী (scavenger)-দুই ভূমিকাতেই সক্ষম।
খুলির ডান দিকে চোখের পিছনে এবং বাম দিকে চোয়ালের কাছে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই অংশটিই ছিল খুলির সবচেয়ে মাংসল জায়গা-যেখানে নরম টিস্যু থাকত এবং যা খাবার চিবানোর কাজে সাহায্য করত। সম্ভবত সেই অংশেই আঘাত করেছিল টি-রেক্স।
অদ্ভুত বিষয় হল, এডমন্টোসরাসটির শুধু খুলি পাওয়া গেছে-দেহের অন্য কোনও অংশের সন্ধান মেলেনি। অনেকের ধারণা, খুলিতে দাঁত বসানোর আগেই টি-রেক্স মৃতদেহের বেশিরভাগ অংশ খেয়ে নিয়েছিল।
এই আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি মাত্র জীবাশ্মই হয়তো ডাইনোসরদের আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বহু পুরোনো ধারণাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।