চারদিকে শুধু বরফ আর বরফ-এই দৃশ্যই সাধারণত মনে আসে যখন আমরা আন্টার্কটিকা মহাদেশের কথা ভাবি। কিন্তু এই বরফের স্তরের নীচেই লুকিয়ে আছে এক অজানা পৃথিবী। বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রে ছিল এক অদ্ভুত রহস্য-পাহাড়ের চূড়ায় পাওয়া গোলাপি রঙের গ্রানাইট পাথর। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলল সাম্প্রতিক গবেষণায়।
ব্রিটিশ আন্টার্কটিক সার্ভে–এর নেতৃত্বে গবেষকরা পশ্চিম আন্টার্কটিকার হাডসন পর্বতমালা অঞ্চলে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে এই রহস্যের সূত্র পান। সেখানে অবস্থিত পাইন দ্বীপ হিমবাহ–এর কাছাকাছি আগ্নেয়গিরির চূড়ায় দেখা যায় অস্বাভাবিক গোলাপি গ্রানাইট বোল্ডার। আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে যার কোনও মিল ছিল না। বহু দশক ধরে বিজ্ঞানীরা ভেবেছেন-এই পাথরগুলি এল কোথা থেকে?
গবেষণায় জানা যায়, এই পাথরগুলির বয়স প্রায় ১৭ কোটি বছর, অর্থাৎ জুরাসিক যুগের। তখন আন্টার্কটিকা আজকের মতো বরফে ঢাকা ছিল না। বরং এটি ছিল তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চল, যেখানে ঘন অরণ্য, কনিফার গাছ ও ফার্নে ভরা ছিল ভূখণ্ড। সেই পরিবেশে বাস করত ডাইনোসরের বিভিন্ন প্রজাতি, যেমন ক্রায়োলোফোসরাস।
এরপর ভূ-পদার্থবিদ টম জর্ডান–এর নেতৃত্বে গবেষকরা বিমানের মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মাধ্যাকর্ষণ বিশ্লেষণ করেন। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই তারা আবিষ্কার করেন-হিমবাহের নীচে চাপা পড়ে আছে বিশাল এক গ্রানাইট স্তূপ, যার প্রস্থ প্রায় ১০০ কিলোমিটার এবং পুরুত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। আকারে এতটাই বিশাল যে এতে প্রায় অর্ধেক Wales ঢুকে যেতে পারে।
এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে Nature Communications Earth & Environment জার্নালে। বিজ্ঞানীদের মতে, বরফের নীচে থাকা এই গ্রানাইট স্তূপ পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং বরফের প্রভাব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে।
আজকের বরফে ঢাকা আন্টার্কটিকা একসময় ছিল সবুজ বনভূমিতে ভরা প্রাণচঞ্চল ভূখণ্ড-এই নতুন আবিষ্কার আবারও সেই প্রাচীন পৃথিবীর গল্প শোনাল।