পৃথিবী ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে, আর তার সঙ্গে বাড়ছে ভয়াবহ ভবিষ্যতের আশঙ্কা। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই শতকের শেষেই তাপপ্রবাহ এবং খরার যুগপৎ আঘাত বর্তমানের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই চরম পরিস্থিতির শিকার হতে পারেন বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ।
জার্মানি ও চিনের গবেষকদের যৌথ সমীক্ষায় উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর এই পূর্বাভাস। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জিয়োফিজ়িক্যাল রিসার্চ লেটার্স (Geophysical Research Letters)-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, ২০৯০-এর দশকে পৃথিবীর বহু অঞ্চলে একই সঙ্গে তীব্র দাবদাহ ও ভয়াবহ খরা দেখা দেবে। পানীয় জলের সঙ্কট, খাদ্যাভাব, দাবানল এবং কৃষিক্ষেত্রে বিপুল ক্ষতির মতো সমস্যা তখন ভয়ঙ্কর আকার নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের যে হার চলছে, তাতে ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রায় ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে তাপপ্রবাহ ও খরার স্থায়িত্বও বর্তমানের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি হবে।
সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়বে ক্রান্তীয় অঞ্চল এবং স্বল্প আয়ের দরিদ্র দেশগুলি। কারণ এই দেশগুলিতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ বা বিকল্প জল সংরক্ষণের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। গবেষকদের আশঙ্কা, জল ও খাদ্যের সঙ্কটে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা চরম আকার নিতে পারে।
পরিবেশবিদদের মতে, এখনও সময় আছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার। ২০১৫ সালের Paris Agreement-এর প্রতিশ্রুতিগুলি যদি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত করা যায়, তবে অন্তত ৯০ কোটি মানুষকে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে।