একই ঘরে বসে রয়েছেন কয়েক জন। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে মশার সমস্ত আক্রমণ যেন একজনকেই ঘিরে! এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। বিজ্ঞান বলছে, এর পিছনে রয়েছে শুধু ভাগ্য নয়, শরীরের রাসায়নিক গঠন, রক্তের গ্রুপ এমনকি জিনগত কারণও।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের রক্তের গ্রুপ 'O', তাঁদের প্রতি মশারা তুলনামূলক ভাবে বেশি আকৃষ্ট হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, এই রক্তের গ্রুপের মানুষের শরীর থেকে নির্গত কিছু রাসায়নিক সংকেত মশাকে দ্রুত টেনে আনে। অন্য দিকে 'A' গ্রুপের মানুষদের তুলনায় তুলনামূলক কম কামড়ায় মশা।
তবে শুধু রক্তের গ্রুপই নয়, শরীরের ঘামও এখানে বড় ভূমিকা নেয়। যাঁদের শরীর থেকে বেশি পরিমাণে ল্যাক্টিক অ্যাসিড, ইউরিক অ্যাসিড বা অ্যামোনিয়া বেরোয়, তাঁদের দিকে মশা বেশি ধেয়ে আসে। কারণ এই রাসায়নিকগুলি মশার কাছে যেন 'খাবারের সংকেত'।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল কার্বন ডাই-অক্সাইড। মানুষ শ্বাস নেওয়ার সময় যে গ্যাস ত্যাগ করে, তা ধরেই মশা শিকার চিহ্নিত করে। যাঁদের শরীর থেকে বেশি পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়- যেমন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা বা অতিরিক্ত ওজনের মানুষ- তাঁদের বেশি কামড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়।
পোশাকের রংও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। কালো বা গাঢ় রঙের জামাকাপড় মশাকে বেশি আকর্ষণ করে। কারণ গাঢ় রং তাপ বেশি শোষণ করে এবং মশারা সহজে সেই দিক শনাক্ত করতে পারে।
অন্য দিকে বিয়ার বা অ্যালকোহল পান করলেও মশার হামলা বাড়তে পারে। গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিয়ার খাওয়ার পর শরীরের ঘাম থেকে নির্গত ইথানলের গন্ধ মশাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।