পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধির নেপথ্যে যে শুধু কারখানার ধোঁয়া বা যানবাহনের দূষণ দায়ী নয়, তার নতুন প্রমাণ মিলল সমুদ্রের গভীর থেকে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে ভয়াবহ তথ্য- সমুদ্র থেকেই বিপুল পরিমাণে নির্গত হচ্ছে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস, যা আরও দ্রুত পৃথিবীকে উষ্ণ করে তুলছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই রহস্যের খোঁজ পেয়েছেন দীর্ঘ গবেষণার পর। তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে 'প্রসিডিং অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস' (Proceedings of the National Academy of Sciences)-এ। এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, মিথেন সাধারণত অক্সিজেনহীন পরিবেশে তৈরি হয়। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল, সমুদ্রের উপরিতলের অক্সিজেনসমৃদ্ধ জল থেকেও ক্রমাগত বাতাসে মিশছে এই শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস।
গবেষণায় জানা গিয়েছে, সমুদ্রে থাকা কিছু বিশেষ জীবাণু জৈব পদার্থ ভাঙার সময় মিথেন উৎপন্ন করছে। আর এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে রয়েছে ফসফেটের ঘাটতি। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রে ফসফেট কমে গেলে ওই জীবাণুগুলি আরও বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তার ফলেই বাড়তে থাকে মিথেনের উৎপাদন।
থমাস ওয়েবার, যিনি এই গবেষণার অন্যতম সদস্য, জানিয়েছেন যে খোলা সমুদ্রে মিথেন উৎপাদনের মূল নিয়ন্ত্রকই হল ফসফেটের অভাব। অর্থাৎ, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্র যত উষ্ণ হবে, ততই এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুতগতিতে চলবে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, এটি একটি ‘ভয়ঙ্কর চক্র’ তৈরি করছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে, তাতে ফসফেটের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। আবার সেই ঘাটতির কারণেই উৎপন্ন হচ্ছে আরও বেশি মিথেন, যা পৃথিবীর উষ্ণতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস আরও নির্ভুল করতে এই গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সমুদ্রের অন্দরে লুকিয়ে থাকা এই ‘অদৃশ্য বিপদ’ আগামী দিনে পৃথিবীর পরিবেশের জন্য কত বড় হুমকি হয়ে উঠবে, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।