বরফে ঢাকা সাদা পৃথিবীর বুক চিরে নেমে আসছে রক্তলাল জলধারা... দেখলে যেন মনে হয় কোনও ভৌতিক সিনেমার দৃশ্য! Blood Falls নামে পরিচিত আন্টার্কটিকার এই রহস্যময় প্রপাত শতাধিক বছর ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। অবশেষে মিলল তার ব্যাখ্যা।
এই অদ্ভুত প্রপাতটি রয়েছে Taylor Glacier-এ। এত দিন মনে করা হত, বরফের নীচে আটকে থাকা আয়রনসমৃদ্ধ নোনা জল বাতাসের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজ়ড হওয়ার ফলেই জলের রং লাল হয়ে যায়। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বিষয়টি শুধু রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নয়-এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হিমবাহের অভ্যন্তরীণ চাপ ও ভূগর্ভস্থ জলপ্রবাহের জটিল সম্পর্ক।
গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, হিমবাহের নিচে থাকা অতি-লবণাক্ত জল বরফের প্রচণ্ড চাপের কারণে ফাটল দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। প্রশ্ন উঠতে পারে-আন্টার্কটিকার হিমশীতল পরিবেশে সেই জল জমে বরফ হয়ে যায় না কেন? বিজ্ঞানীদের মতে, অতিরিক্ত লবণের কারণে এই জলের হিমাঙ্ক অত্যন্ত কম। ফলে তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নীচে নামলেও জল তরল অবস্থায় থাকে।
বাতাসে বেরিয়ে আসার পর সেই জলে থাকা আয়রন অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে লালচে আয়রন অক্সাইড তৈরি করে। আর তখনই দেখা যায় সেই ভয়ংকর সুন্দর 'রক্তপ্রপাত'।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, বরফের নীচে কোটি বছর ধরে আটকে থাকা এই জলে এখনও জীবিত রয়েছে অণুজীব। বিজ্ঞানীদের ধারণা, তারা অক্সিজেন ছাড়াই লোহা ও সালফারের রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকে শক্তি সংগ্রহ করে বেঁচে আছে।
গবেষকদের মতে, এই জলধারা প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ বছর ধরে বরফের নিচে বন্দি অবস্থায় আছে। তাই Blood Falls শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়... এটি পৃথিবীর আগেকার জলবায়ু, জীববিজ্ঞান এবং সম্ভাব্য ভিনগ্রহের জীবনের সূত্র খুঁজে পাওয়ারও এক অসাধারণ যোগসূত্র।