পৃথিবীর ঘরে-ঘরে দেখা মেলে এমন এক প্রাণীর, যার ইতিহাস বিস্ময়কর। আকারে ছোট হলেও শক্তি ও টিকে থাকার ক্ষমতায় সে যেন প্রকৃতির এক আশ্চর্য সৃষ্টি-এই প্রাণীটি হল আরশোলা। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৩৫ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে এই কীট, অর্থাৎ বিশালাকার ডাইনোসরদেরও বহু আগে থেকে এদের অস্তিত্ব।
আরশোলার শরীরের গঠন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং অভিযোজন ক্ষমতা অসাধারণ। বিপদের সময় এরা নিজেদের বাঁচাতে অবিশ্বাস্য কৌশল ব্যবহার করে। যেমন, কেউ যদি আরশোলার একটি পা ধরে ফেলে, তাহলে অনেক সময় সে নিজের পা নিজেই শরীর থেকে ছিন্ন করে পালিয়ে যায়। পরে সেই জায়গায় আবার নতুন পা গজাতে পারে। শত্রুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রকৃতি তাদের এই বিশেষ ক্ষমতা দিয়েছে।
এদের শরীরের আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হল সংকোচন ক্ষমতা। আরশোলা নিজেদের শরীর এতটাই সংকুচিত করতে পারে যে সরু ফাটল বা ছোট গর্ত দিয়েও সহজেই ঢুকে পড়ে। ফলে অনেক সময় জুতো দিয়ে চাপা পড়লেও তারা বেঁচে যায়।
খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও আরশোলা অত্যন্ত সহনশীল। মানুষের খাবার তো বটেই, সাবান, দেওয়ালের কাগজ, কাপড়, বইয়ের মলাট, এমনকি আঠা বা বৈদ্যুতিক তারের আবরণ-প্রায় সবকিছুই এদের খাদ্য তালিকায় থাকতে পারে। এই কারণেই পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই তাদের টিকে থাকা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় সব জায়গায় আরশোলার উপস্থিতি দেখা যায়। শুধু অত্যন্ত শীতল অঞ্চল অ্যান্টার্কটিকা-তেই তারা স্থায়ীভাবে বাস করতে পারে না, যদিও সেখানে কয়েক দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, আরশোলার শরীরের গঠন এতটাই শক্ত ও অভিযোজিত যে বড়সড় পরিবেশগত বিপর্যয়েও তারা টিকে থাকতে পারে। সেই কারণেই অনেক সময় বলা হয়-পৃথিবীতে যদি কখনও বড় ধরনের বিপর্যয় বা পরমাণু যুদ্ধ ঘটে, তবুও হয়তো আরশোলারা বেঁচে থাকবে।