Calcutta Television Network

সুমেরুতে দ্রুত বদলাচ্ছে নদীখাত, ভাঙনের নেপথ্যে নতুন কারণ

সুমেরুতে দ্রুত বদলাচ্ছে নদীখাত, ভাঙনের নেপথ্যে নতুন কারণ

9 September 2026 , 03:16:03 pm

নদীর তলায় বরফ জমে থাকলে নদীর পাড়ে তুলনামূলক ভাবে স্থিরতা বজায় থাকে, এত দিন এমনটাই মনে করতেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি গবেষণা সেই ধারণাকে কার্যত ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। গবেষকদের দাবি, নদীগর্ভে জমে থাকা বরফ সব সময় পাড়কে সুরক্ষিত করে না। বিশেষ করে সুমেরু অঞ্চলে বরফে ঢাকা নদীগুলিতে ভাঙনের আশঙ্কা অনেকক্ষেত্রে বেশি থাকে। নাতিশীতোষ্ণ এলাকার নদীর তুলনায় সেখানে নদীভাঙনের হার প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত অধিকতর হতে পারে। কানাডার সুমেরু অঞ্চলের নদীগুলির উপর ভিত্তি করে এই গবেষণা চালিয়েছেন সাইমন ফ্রেজ়ার বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। তাঁদের গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘কমিউনিকেশন্স আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ নামক একটি জার্নালে।

গবেষণার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পৃথিবীর গড় উষ্ণতা বৃদ্ধির তুলনায় সুমেরু অঞ্চল প্রায় চার গুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে সেখানকার বরফ, মাটি এবং নদীগুলির উপরেও। বদলে যাচ্ছে ভূমির চরিত্র। এমনকি গত কয়েক দশকে ওই অঞ্চলে নতুন নতুন নদীখাত তৈরি হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। আগে যে গতিতে এই পরিবর্তন হবে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করতেন, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক দ্রুত বদলাচ্ছে সুমেরু অঞ্চলের নদী ব্যবস্থা। এত দিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, নদীর নীচে জমে থাকা শক্ত বরফ মাটিকে শক্ত করে ও মজবুতভাবে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ফলে নদীর স্রোতে মাটি সহজে সরে যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে সম্পূর্ণ অন্য ছবি ধরা পড়ে গবেষকদের কাছে। গবেষণাটি শুরু হয় ২০২৪ নাগাদ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুমেরু অঞ্চলের ভূমিরূপ কী ভাবে বদলাচ্ছে, সেটিই ছিল মূল বিষয়বস্তু। বরফ জমা এবং গলে যাওয়ার সময় নদীখাতের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে, তা খতিয়ে দেখতে গবেষকেরা সুমেরু এবং নাতিশীতোষ্ণ এলাকার নদীর ক্ষয়প্রক্রিয়ার মধ্যে সমূহ পার্থক্য লক্ষ্য করেন। গবেষকদলের অন্যতম সদস্য জোনাস এসচেনফেল্ডারের কথায়, তাঁদের প্রাথমিক ধারণার সম্পূর্ণ বিপরীত ফল সামনে আসছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাঁরা পরীক্ষাগারেও অনুরূপ পরিস্থিতি তৈরি করেন। ‘ল্যাব স্ট্রিম’ পদ্ধতিতে নদীখাতের একটি ছোট মডেল নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪৭ ইঞ্চি লম্বা দু’টি কাঁচের পাতের সাহায্যে নদীর মতো একটি পথ তৈরী করা হয়। নুড়ির পরিবর্তে সেখানে ব্যবহার করা হয় কাচের ছোট পুঁথি। বিভিন্ন তাপমাত্রায় জল প্রবাহিত করে সেগুলির উপর পরীক্ষা চালানো হয়। একই পরীক্ষা বার বার করেও গবেষকেরা ফলাফল একইরকম পান। দেখা যায়, বরফ জমে থাকা নদীগর্ভে পরিস্থিতি বদলালে ক্ষয়ের পরিমান আরও দ্রুত হতে পারে। অর্থাৎ বরফ থাকা মানেই নদীখাত বেশি নিরাপদ, এমন ধারণার সেই অর্থে কোনও ভিত্তি নেই। এর পরে গবেষকেরা একটি গাণিতিক মডেল নির্মাণ করেন। সেই মডেলের ফল যাচাই করতে তাঁরা কানাডার ডেভন দ্বীপেও পৌঁছে যান।

গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, শীতকালীন সময়ে নদীর তলার মাটি সম্পূর্ণ জমে গেলে স্বাভাবিক ভাবেই ক্ষয়ের পরিমান কমে যায়। কারণ তখন জমি অত্যন্ত শক্ত থাকে। কিন্তু আবহাওয়া উষ্ণ হতে শুরু করলে নদীগর্ভের উপরের পাতলা অংশ ধীরেধীরে গলতে থাকে। সমস্যা তৈরি হয় তার পরেই। উপরের অংশ নরম হয়ে গেলেও তার নীচে থাকা পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ অন্তত দু’বছর ধরে হিমাঙ্কের নীচে জমে থাকা ভূপৃষ্ঠ, তখনও শক্ত থাকে। ফলে উপরের নরম মাটি ও নীচের জমাট স্তরের মধ্যে ভারসাম্য কিছুটা হরো নষ্ট হয়। নদীর জল স্বাভাবিক পথে এগোতে না পেরে আশপাশের দিকে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। এর ফলেই নদীর পাড় ও নদীখাতের মাটি দ্রুত সরে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীমহল। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুমেরু অঞ্চলে বরফ গলার হার বৃদ্ধি পেতে থাকলে এই ধরনের নদীভাঙন আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে আগামী দিনে সেখানকার নদীর গতিপথ, ভূমিরূপ এবং পরিবেশের উপর এর বড় প্রভাব পড়ার পরিস্থিতি তৈরী হয়।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN