দুর্গাপুজো মানেই খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা আর অতিথি-আপ্যায়ণ। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে কখনও হঠাৎ অতিথি এলে রান্নাঘরে যে বিপত্তি বাধে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যদি এক পদেই সমাধান হয়ে যায় সব আয়োজন, তাহলে? ভাবুন তো, অতিথির পাতে একসঙ্গে মাছের রাজা ইলিশ আর বিরিয়ানির স্বাদ! ব্যস্ততার দিনে এমনই এক দারুণ রেসিপি হলো ইলিশ বিরিয়ানি। ঝটপট রান্না, অথচ স্বাদে ভরপুর।
এবার বলি কী কী লাগবে এই লাগবে এই বিরিয়ানিতে- ইলিশ মাছ লাগবে ৬ টুকরো, বাসমতি চাল লাগবে ১ কেজি, পিঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদাবাটা ১ চামচ, রসুনবাটা ১ চামচ, কাঁচা লঙ্কাবাটা ১ চামচ, টক দই ১ কাপ, গরম মশলার গুঁড়ো ১ চামচ, জিরেগুঁড়ো ১ চামচ, ধনেগুঁড়ো ১ চামচ, হলুদগুঁড়ো ১ চামচ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ১ চামচ, তেজপাতা লাগবে ২টো, এলাচ লাগবে ৪টে, দারচিনি ১ টুকরা, লবঙ্গ লাগবে ৪টে, ঘি ৪ চামচ, তেল পরিমাণমতো লাগবে, নুন স্বাদমতো দিতে হবে, চিনি ১ চামচ, লেবুর রস ১ চামচ, ধনেপাতা কুচি লাগবে পরিমাণমতো, গোলাপ জল ১ চামচ লাগবে, কেওড়া জল ১ চামচ, দুধে ভেজানো কেশর লাগবে সামান্য।
এই রান্নাটা করার জন্য মাছটা প্রথমে ম্যারিনেট করতে হবে। ইলিশের টুকরোগুলো নুন, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো আর লেবুর রসে মেখে ১৫–২০ মিনিট ঢেকে রাখুন। চালটা তৈরি করতে হলে প্রথমে বাসমতি চাল ধুয়ে অন্তত ১৫ মিনিট জলে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর কড়াইতে তেল গরম করে ইলিশ ভেজে নিন। খুব সাবধানে, যাতে ভেঙে না যায়। এরপর তেল/ঘিতে পিঁয়াজ কুচি ভেজে সোনালি করুন। এবার আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কাবাটা দিয়ে ভালোভাবে কষান। ধনে, জিরে, হলুদ ও লঙ্কাগুঁড়ো দিয়ে আরও একটু কষে নিন। আলাদা কড়াইতে ঘি গরম করে তেজপাতা, এলাচ, দারচিনি, লবঙ্গ ফোড়ন দিন। চাল দিয়ে সামান্য ভেজে নিন। নুন, চিনি ও গরম মশলার গুঁড়ো দিয়ে পরিমাণমতো জল দিয়ে ঢেকে দিন। চাল যখন প্রায় সেদ্ধ, তখন উপরে ভাজা ইলিশ সাজিয়ে দিন। মাছ ভাজার তেল, কেশর মিশ্রিত দুধ, গোলাপ জল, কেওড়া জল ছড়িয়ে দিন। ঢিমে আঁচে ঢেকে ১০–১২ মিনিট দমে রাখুন। এরপর উপরে ধনেপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে আগে থেকে ভেজে রাখা আলু বা সেদ্ধ ডিমও পরিবেশনের সময় যোগ করতে পারেন।
এরপর গরমাগরম পরিবেশন করার সময় অবশ্যই একটু গোল গোল করে স্যালাড কেটে নিন। গরম গরম ইলিশ বিরিয়ানি পরিবেশন করুন ঠান্ডা শশার রায়তা, টক দই বা সালাদের সঙ্গে। পুজোর দিনে এই এক পদেই জমে যাবে ভোজের আসর।