Calcutta Television Network

কপিল মুনির আশ্রম ও গঙ্গাসাগর মেলার ইতিহাস

কপিল মুনির আশ্রম ও গঙ্গাসাগর মেলার ইতিহাস

7 January 2025 , 07:28:20 pm

গঙ্গাসাগর মেলা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণে সাগর দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। কপিল মুনির আশ্রমে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তিতে অনুষ্ঠিত একটি মেলা ও ধর্মীও উৎস। হুগলি নদী (গঙ্গা) ও বঙ্গোপসাগরের মিলন স্থানকে বলা হয় গঙ্গাসাগর সঙ্গম। এটি একদিকে তীর্থভূমি আবার অন্যদিকে বেলাভূমি। এই দুয়ের মেলবন্ধনে গড়ে উঠেছে গঙ্গাসাগর মেলা যা পূণ্য়ার্থী ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।


 গঙ্গা নদীর মর্ত্যে প্রত্যাবর্তন ও সাগর রাজার পুত্রদের জীবন মুক্তির লোকগাঁথাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এই বিখ্যাত তীর্থস্থান গঙ্গাসাগর।গঙ্গাসাগর মেলা দ্বিতীয় বৃহত্তম হিন্দু মেলা (কুম্ভমেলার পরে)।  এই স্থানটি হিন্দুদের কাছে পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। তাই প্রতিবছর পৌষ সংক্রান্তির দিন এখানে বহু লোক তীর্থস্নান করতে আসেন; তবে উত্তর ভারত থেকে আগত পুণ্যার্থীদের ভিড়ই হয় সর্বাধিক। কে এই কপিল মুনি? কেনই বা এখানে গড়ে উঠল তীর্থক্ষেত্র? জানব সেই ইতিহাস।  


ভাগবত পুরাণ অনুযায়ী কর্দম মুনি মোক্ষ লাভে শ্রীবিষ্ণুর কঠোর তপস্যা শুরু করলেন । তপস্যায় তুষ্ট হয়ে ভগবানবিষ্ণু কর্দম মুনিকে আশির্বাদ করে বলেন তুমি মনু কন্যা দেবাহুতিকে বিয়ে কর, কেননা আমি অবতার রূপে তার গর্ভে জন্ম নেব । সেই কথা অনুযায়ী পিতা কর্দম মুনি ও মাতা দেবাহুতির গর্ভে জন্ম নিলেন শ্রীবিষ্ণুর অবতার কপিল মুনি। পরবর্তীতে নির্জন দ্বীপে আশ্রম করে তিনি তপস্য়ায় মগ্ন হলেন।


 রামচন্দ্রের পূর্ব পুরুষ ইক্ষাকু রাজবংশের রাজা সগর,ঋষি ঔর্ব্যের নির্দ্দেশে শত অশ্বমেধ যজ্ঞ আরম্ভ করেন । কথিত আছে এই যজ্ঞ সফল হলে সে পৃথিবী শাসন করার অধিকার লাভ করে । এই যোগ্যতা একমাত্র দেবরাজ ইন্দ্রের আছে । সগর রাজার যজ্ঞ বিফল করার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রএকটি ঘোড়া  কপিল মুনির আশ্রমে লুকিয়ে রাখেন ।ইতিমধ্যে ৯৯টি ঘোড়া যজ্ঞ স্থলে ফিরে এলেও একটি ঘোড়া ফেরেনি । রাগে ক্রদ্ধ হয়ে সগর রাজা তার ৬০,০০০ পুত্রকে আদেশ দিলেন অশ্ব খুঁজে আনতে । খুঁজতে খুঁজতে তারা উপস্থিত হল কপিল মুনির আশ্রমে । কপিল মুনির ধ্যান ভঙ্গ করে  অশ্ব নিতে উদ্যত হলে কপিল মুনি তাঁর ক্রঢ় দৃষ্টি দিয়ে সাগর রাজার ষাট হাজার পুত্রকে ভষ্ম করে নরকে পাঠিয়ে দেন । সগর রাজার শত-অশ্বমেধ যজ্ঞ বিফল হয় ।


 বহুবছর পর রাজা অংশুমান তপস্যা বলে এসব জানতে পারেন ও ৬০,০০০ রাজপুত্রের প্রাণ মুক্তি দানে ব্যর্থ হন । তারও অনেক পরে রাজা দিলীপার পুত্র রাজা ভগীরথ সব কিছু জানতে পারেন ও তপস্যা বলে কপিল মুনিকে সন্তুষ্ট করেন । খুশী হয়ে কপিল মুনি বলেন, গঙ্গাজল দিয়ে যদি আমার আশ্রম পবিত্র করে দাও তবে এদের  আমি মুক্তি দেব ।


 রাজা ভগীরথ  কঠোর তপস্যাবলে ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর থেকে গঙ্গাকে মর্ত্যে আনার অনুমতি পেলেন । শ্রীবিষ্ণু রাজা ভগীরথকে সতর্ক করলেন যে গঙ্গার  তেজ ও গতিবেগ এত বেশী যে ধরাধামকে ভাসিয়ে দিতে পারে । রাজা ভগীরথ উপায় জানতে চাইলেন- ভগবান শ্রীবিষ্ণু বললেন একমাত্র শিবই পারেন গঙ্গার গতি রুদ্ধ করতে । আবার শুরু হল শিবের তপস্যা । তপস্য়ায় শিব সন্তুষ্ট হয়ে গঙ্গাকে মাথায় ধারণ করলেন ও জটার মধ্য দিয়ে ধীরে প্রবাহিত হওয়ার আদেশ দিলেন ।


 গঙ্গা মর্ত্যে পতিত হলেন হিমালয়ের গঙ্গোত্রী (গো-মুখ) হিমবাহে । গঙ্গা মর্ত্যে প্রবাহিত হওয়ার সময় নিম্নগতিতে (বর্তমানেমুর্শিদাবাদের নিকট) জাহ্ণ্যমুনির আশ্রম ভাসিয়ে  দিলেন । জাহ্ণ্যমুনি রেগে গঙ্গাকে গন্ডুশে ধারণ করেন ও পান করলেন । দির্ঘদিন  পরেও গঙ্গার দেখা না পেয়ে  রাজা ভগীরথ চিন্তায় পড়লেন । অবশেষে ঘটনাটি জেনে আবার জাহ্ণ্যমুনির তপস্যায় বসলেন । তপস্যায়  সন্তুষ্ট হয়ে জাহ্ণ্য়মুনি নিজের পায়ের জানু (হাঁটু) মতান্তরে (উদর) থেকে গঙ্গাকে মুক্তি দিলেন । ছিটকে পড়া মুল ধারাটি জাহ্ণবী নাম নিয়ে প্রবাহিত হতে থাকল । গড়িয়ে পড়া জলধারাটি পদ্মা নাম ধারণ করে  বর্তমান বাংলাদেশে প্রবাহিত হতে লাগল ।


এই জন্য গঙ্গার অপর নাম ভাগীরথী । এই নদী বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন নাম ধারণ করেছে ,যেমন- মুর্শিদাবাদে জাহ্ণবী, নদীয়াতে ভাগীরথী, হুগলীতে হুগলী নদী নাম ধারণ করে  পৌঁছালো সাগরদ্বীপ কপিলমুনির আশ্রমে,সেই দিনটি ছিল পৌষ সংক্রান্তির দিন। অবশেষে সমুদ্রে মিলিত হয় গঙ্গা ।  কপিলমুনি খুশী হয়ে ভগীরথের পূর্বপুরুষ ৬০,০০০ রাজপুত্রকে মুক্তি দিলেন। 


দিকে দিকে কপিলমুনির জয়ধ্বনি উঠলো । এই জন্য়ই পাপ খন্ডন ও মোক্ষ লাভে  তীর্থ যাত্রীরা গঙ্গাসাগরে স্নান করেন। প্রচলিত জনশ্রুতি হলো-  সব যাত্রা বার বার, গঙ্গা সাগর একবার ।।


0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN